বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের বড়াইগ্রামের পচা বড়াল নদী খননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার নগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুজ্জোহাসহ স্থানীয় লোকজন অনিয়মের অভিযোগে খনন কাজ বন্ধ করে দেন। তবে কাজ বন্ধের এক দিন পর শনিবার দুপুর থেকে ঠিকাদারের লোকজন পুনরায় খনন শুরু করেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলার নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুজ্জোহা বলেন, নদী খননে শিডিউল মানা হচ্ছে না। যেভাবে কাজ করা হচ্ছে তা মানসম্মত নয়। এছাড়া নদীর পাড়েই মাটি ফেলায় বৃষ্টি হলে তা ধসে গিয়ে পুনরায় নদী ভরাট হয়ে যাবে। মেরিগাছা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের, দৌগাছি এলাকার এনায়েত হোসেন জানান, যেভাবে নদীর মাটি কাটা হচ্ছে আবার খননে উঠে আসা মাটি পাড় বরাবর জমিয়ে রাখা হচ্ছে তাতে অল্প সময়েই পুনরায় নদী ভরাট হয়ে খননের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
জানা যায়, মেরিগাছা বাজার হতে চিকনাই নদী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ পচা বড়াল নদী খনন কাজ চলছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ‘ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নাটোর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পে’র আওতায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ খনন কাজ করছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়। ১২ কিলোমিটারের মধ্যে প্রকল্পের শুরুতে মেরিগাছা বাজার এলাকায় ৭০০ মিটার নদী খননের দায়িত্ব পায় নাটোরের এম এ কনস্ট্রাকশন।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমতল থেকে আট ফুট গভীরে নদী খনন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। নদীর পানি শুকিয়ে বা সেচ দিয়ে পানি অপসারণ করে খনন করার কথা থাকলেও তা না করে পানি রেখেই খনন করা হচ্ছে। পুরাতন পাড় ঢালু (স্লোপ) করে না কেটে নদীর তলদেশ থেকে তোলা কাদামাটি দিয়ে স্লোপ করা হয়েছে। এতে কাজ শেষ না হতেই একাধিক স্থানে স্লোপিং ভেঙে নদীতেই পড়ে গেছে। দুই তীরের মাটি কেটে নদীর পাড়ের ওপরেই ফেলা হচ্ছে, যা সামান্য বৃষ্টি হলেই ধসে নদীতে নেমে যাবে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার পরিচয়দানকারী খোকন হোসেন জানান, শিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে, তবে কোথাও কোথাও কাজের তারতম্য হতে পারে। এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের এ ব্যাপারে সংবাদ না লেখার অনুরোধ করেন। নগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার জমিন উদ্দিন জানান, আমি ঘটনার দিন এলাকায় ছিলাম না। তবে নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বলে শুনেছি।
প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বড়াইগ্রাম অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন, পানি শুকিয়ে বা অপসারণ করে নদী খনন করার কথা। এছাড়া স্লোপিং ভেঙে যাওয়া ও পাড়ে রাখা মাটি ধসে পুনরায় নদীতে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
