ফুলবাড়ীতে আলুর দাম নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০৪

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

ফুলবাড়ীতে চলতি মৌসুমে আলুর ভালো ফলন দেখা গেলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা। শুক্রবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোনো জমি পতিত নেই। বিস্তীর্ণ জমিতে কৃষকরা খেতের আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি বিঘা জমিতে এস্টারিজ, রোসাগোল বীজ দিয়ে ভালো ফলন হলে ১০০ থেকে ১১০ মণ পর্যন্ত বিঘা আলু উত্পাদন হয়। বিঘা প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ মিটিয়ে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বাজার দরে আলু বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপজেলার পূর্বফুলমতি গ্রামের কৃষক মণ্ডল আলী জানান, দুই বিঘা জমিতে আলুর বীজ ও ওষুধসহ মোট ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু আলুর দাম কম থাকায় বড় দুশ্চিন্তায় আছি। বাধ্য হয়ে ৩৫০ টাকা মূল্যে আলু বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি ও কিছু ধার-দেনা পরিশোধ করছি। আলুর দাম না বাড়লে সব আলুই হিমঘরে রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক মো. তৈয়ব আলী  জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রায় ২৩ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছেন। কয়েক দিন পরেই আলু তোলা শুরু হবে। এ বছর আলুর দাম না থাকলে লোকসান গুনতে হবে। সরকার যদি আলু বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ করে দেয় তাহলে আলু চাষিদের লোকসান গুনতে হবে না।

বালাতাড়ি গ্রামেরর কৃষক তপন কুমার রায়সহ অনেকেই জানান, আলুর ফলন ভালো হয়েছে। যদি আলুর দাম না বাড়ে তাহলে শত শত কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, এ বছর উপজেলার ১০৮০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা আলু চাষ করেছে, যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলনও গত বছরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলুর দাম একটু কম। তবে কৃষক যাতে লোকসানে না পড়ে সে কারণে কৃষি বিভাগ বিদেশে আলু রফতানির জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশাকরি আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আলুর দাম বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষক সুফল পাবে।