ভালো দাম পেয়ে কৃষক খুশি
সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতা
বগুড়ার সোনাতলায় এবার কাঁচা মরিচের দারুণ ফলন হয়েছে। ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে লাভ হয়েছে কৃষকের। এতে আগামীতে মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
গত চার দফা বন্যায় রোপা আমন, পাট, শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে মরিচ চাষ করে ক্ষতি পুষিয়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন কৃষকরা। স্বপ্ন পূরণে এবার প্রায় ২২ হাজার কৃষক ১২ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করেন। উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নে প্রতি বছর মরিচের চাষ হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে তেকানী চুকাই নগর, পাকুল্লা, মধুপুর ও জোড়গাছা ইউনিয়নে।
এসব ইউনিয়নের জমি যমুনা-বাঙালী নদী বিধৌত ও পলিযুক্ত। তাই মরিচের ফলন হয় বাম্পার। এবার প্রতি বিঘা জমিতে দেশি জাতের কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৫০ মণ ও হাইব্রিড জাতের ৬০ থেকে ৮০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে।
এবার মরিচ খেতে কোনো রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই বললেই চলে। কৃষি কর্মকর্তারা ও কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করতে ব্যয় হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি করে প্রতি বিঘা থেকে লাভ পাওয়া যাচ্ছে ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা।
বর্তমান বাজারে প্রতি মণ কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায়। মৌসুমের প্রথম দিকে আরো বেশি দামে মরিচ বিক্রি হয়েছে।
কৃষক ফজলু মিয়া ও আব্দুল জলিল জানান, এবার মরিচের ফলন মোটামুটি ভালো। দামও ভালো। আমরা লাভবান হয়েছি। মরিচ ব্যবসায়ী সবুজ্জল জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় আমরা এবার কাঁচা মরিচের ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হচ্ছি।
এদিকে কৃষক ও স্থানীয় দরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষরা মরিচ তোলার কাজে ব্যস্ত থাকে। মরিচ তুলে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করে থাকেন দরিদ্র নারী-পুরুষরা। যারা মরিচ বহন করার কাজে নিয়োজিত তারাও মরিচের মৌসুমে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করেন। জমি থেকে তোলা মরিচ ভ্যানগাড়ি অথবা ঘোড়া ও গরুর গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় কালাইহাটা,হরিখালী, পাকুল্লা ও কাচারী বাজারসহ কয়েকটি পয়েন্টে। এখান থেকে ব্যবসায়ীরা ট্রাক, ভটভটি ও অন্যান্য যানবাহনযোগে মরিচ বহন করে নিয়ে যায় নীলফামারী, পঞ্চগড়, সৈয়দপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁ, মাগুরা ও দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। সেখানে তারা অধিক দামে মরিচ বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করেন। এমনি ভাবে সোনাতলা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার মণ কাঁচা মরিচ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ জানান, সোনাতলার মরিচ সারা দেশে বিখ্যাত। দুর্যোগের কারণে এবার মরিচ লাগাতে দেরি হয়েছে। তারপরও ১২ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।
