৩০ মার্চ খুলবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫৬

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে ৩০ মার্চ দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।  গতকাল শনিবার এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তবে প্রাক প্রাথমিক আরো পরে খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিবেশ পর্যালোচনা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই অংশ হিসেবে গতকাল আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্কুল খোলার বিষয় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে।

মন্ত্রী জানান, প্রথম দিকে শিক্ষার্থীরা শুধু সপ্তাহে এক দিন আসবে। ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। তবে এসএসসি ও এইচএসসির পরীক্ষার্থীরা সপ্তাহে ছয় দিনই স্কুলে আসবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রোজার সময় পুরো সময়ে ছুটি থাকবে না। এমনিতেই অনেক সময় চলে গেছে। আমরাও ছোটবেলায় দেখেছি শুধু ঈদের সময় ছুটি থাকত। এবারও আমরা তেমনটা করতে চাই। স্কুল খোলার আগে সব শিক্ষককে টিকা দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। 

মন্ত্রী জানান, এসএসসির শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০ কর্মদিবসের জন্য একটি সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। ৩০ মার্চ খোলার ৬০ কর্মদিবসে সিলেবাস শেষ করা হবে। এরপর সাত দিন সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর এইচএসসির পরীক্ষার্থীদের জন্য ৮০ কর্মদিবসের সিলেবাস শেষ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২০টি আবাসিক হলে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা এসব শিক্ষার্থীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছি। এরপর এগুলো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে টিকা দেওয়ার জন্য সরবরাহ করা হবে। শিক্ষার্থী যেখানেই থাকুক না কেন তার আশপাশের টিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবে।  এর আগে গত সপ্তাহে জানানো হয়, আগামী ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে।

গতকালের বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) কামাল হোসেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।