বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। যেদিকেই তাকাই সেদিকেই উন্নয়নের বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত হয়। অথচ একটা সময়ে বাংলাদেশ ছিল দরিদ্রতাপূর্ণ একটা দেশ, সেসময় ৮০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত। যার ফলে সাধারণ মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করত। মানুষের জীবনযাত্রার এমন চিত্রের ফলে স্থানীয় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আমূল কোনো পরিবর্তন হচ্ছিল না। বাংলাদেশের অর্থনীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদেশি দাতা সংস্থাদের দানের ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল। অর্থাৎ বহিঃবিশ্বের সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই সে সময় অর্থনীতি ধিক ধিক করে চলছিল। সে কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বলা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি।
বর্তমানে বাংলাদেশে পূর্বের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতির দিক দিয়ে অনেকটাই স্বাবলম্বীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির আগের চিত্রের সঙ্গে যদি বর্তমান চিত্রের তুলনা করি তাহলে আমরা অনেক পরিবর্তন দেখতে পাই। যেখানে বাংলাদেশের মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাত সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে দেশের মানুষ তিন বেলা পেট ভরে ভাত খেতে পারছে। এছাড়াও গ্রাম অঞ্চলের মানুষ যেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল সেখানেও এখন এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখন গ্রামে বিদ্যুত্ সুবিধা পৌঁছে গেছে যার ফলে ইলেকট্রিক সব ডিভাইসের সুযোগ-সুবিধা গ্রামের মানুষ ভোগ করছে। গ্রামের মানুষ এখন কম্পিউটার পর্যন্ত চালাতে পারে। যার ফলে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ টিকে থাকার লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। আর এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে গ্রাম এবং শহরের মধ্যকার সমন্বয় সাধন করার ফলে। এখন বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গেলে শহর আর গ্রামের মধ্যকার কোনো তফাত্ খুঁজে পাওয়া যায় না। আর এই সমন্বয় সাধন করার ফলে গ্রামের মানুষ এখন আর শুধু কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করে না। তারা কৃষিকাজের পাশাপাশি বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। পুরুষরা শ্রমিক হিসেবে যখন শহরে কাজ করে তখন নারীরা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। একটা হিসাবে দেখা গেছে, গ্রামীণ কৃষিকাজের প্রায় ৪৬ শতাংশই নারীরা সম্পাদন করে এবং কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ২১টি ধাপ এরমধ্যে ১৭টি ধাপে কাজ করেন নারীরা। এবং ফসল তোলার কাজের সঙ্গে ৬৮ শতাংশ নারী যুক্ত। এ তো গেল কৃষিকাজের হিসাব। এছাড়া এসব নারী বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
শ্রমশক্তির সংজ্ঞা অনুযায়ী ২৯ শতাংশ নারী শ্রমশক্তির অংশ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো তৈরি পোশাক। আর এই পোশাকশিল্পে শ্রমিক হিসেবে নারীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করে। আর নারীরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করার ফলে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। এছাড়াও গ্রামীণ পরিবেশে নারীরা উদ্যোক্তা হিসেবে অবদান রাখছে। যেমন হাঁস-মুরগী পালন, মত্স্য উত্পাদন এবং গ্রামীণ কুটির শিল্প স্থাপন করার মাধ্যমে। আর এসব কাজের সরকার ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণের সীমা ৫০ হাজার থেকে ৫০ লাখের উপনীত করেছে এবং নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার জন্য ১৫ শতাংশ ঋণ নারীদের অনুকূলে রাখা হয়েছে। আর এসব ঋণের সুদের হার রাখা হয়েছে ১০ শতাংশ। সরকারের এমন শুধু সুবিধার দরুন গ্রামীণ অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এখন আর গ্রামে কেউ বেকার হয়ে বসে থাকে না। পুরুষরা কাজ করে কলকারখানায় এবং নারীরা ঘরোয়া পরিবেশে কাজ করার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বহুলাংশে অবদান রাখছেন, যা প্রশংসার দাবি রাখে।
. লেখক :শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ইত্তেফাক/এনএ
