স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এর ফলে দীর্ঘ ২৩ বছরের পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্তি পায় বাংলাদেশের মানুষ। এই মুক্তির বার্তা গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘মুক্ত বাংলা’।
১৯৯৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর তত্কালীন উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইনাম উল হক এটি উদ্বোধন করেন। ভাস্কর্যের পরিকল্পনা ও নকশাকার ভাস্কর রশীদ আহমেদ। মূল বেদির চারপাশ সিমেন্টের খুঁটির ওপর লোহার শিকল দিয়ে ঘেরা। সেখানে সাতটি স্তম্ভের ওপর শোভিত মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার দৃঢ় মুষ্টিতে ধরা একটি রাইফেল। মুজিবনগরে গঠিত সাত সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা স্মরণেই সাতটি স্তম্ভ। প্রতিটি স্তম্ভ বিমূর্ত হাত ধরাধরি উলসিত অবয়বে ইসলামি স্থাপত্যভিত্তিক আর্চ রচিত। চোখে রয়েছে লাল সূর্য উদয়ের প্রত্যাশা। সমুদয় অবকাঠামোটি সাতটি আর্চ সংবলিত একটি অর্ধ উদিত সূর্য। বেদির মেঝে নীল রঙের টাইলসে মোজাইক করা। স্বাধীনতার পর বাংলার মানুষের মধ্যে যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল তা বোঝাতে নীল টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। বেদির ওপর থেকে দ্বিতীয় ধাপে কালো পাথর বসানো—যা স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন মহান আত্মত্যাগের নির্দেশক। সন্ধি ও যোগাযোগ বোঝাতে তৃতীয় ধাপে সাদা পাথর বসানো। চতুর্থ ধাপের লাল সিরামিক ইট আন্দোলন ও যুদ্ধের প্রতীক। লাগাতার আন্দোলন বোঝাতে বেদির সবচেয়ে নিচে বিস্তৃত লাল বড় ইট বসানো রয়েছে।
