বাজেটে স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় উদ্যোগ থাকবে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২১, ২১:৫১

আগামী বাজেটে স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে সিরামিক শিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। আগামী জুনে পরবর্তী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষ্যে ঐ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় উদ্যোক্তারা জানান, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সিরামিক শিল্প সম্প্রতি বিদেশে রপ্তানিও শুরু করেছে। এক সময়ের পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এ খাত বর্তমানে স্থানীয় চাহিদার ৬০ শতাংশের ওপরে সরবরাহ করছে । গত বছর প্রায় সোয়া ৪০০ কোটি টাকার সিরামিকপণ্য রপ্তানিও করা হয়েছে। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমদানিনির্ভর একটি খাত এখন রপ্তানিও করছে। এটি এনবিআর তথা সরকারের সহায়তায় সম্ভব হয়েছে। আমরা যেখানে খুঁজে পাই যে, একটু সহায়তা দিলে রপ্তানি হবে, স্থানীয় শিল্পায়ন হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে—তাহলে কেন দেব না? তবে এটি আমরা সচেতনভাবে দিতে চাই। নইলে আবার আমদানির পরিবেশ তৈরি হয়ে যাবে।

এসময় সিরামিক খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা, অগ্রিম কর ব্যবস্থা বাতিল করা, অর্থনৈতিক অঞ্চলে সঙ্গে বাইরের শিল্পের বৈষম্য কমানো তথা কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া, কিছু কাঁচামাল ও কেমিক্যাল আমদানিতে মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানিতে সহগ নির্ধারণে যৌক্তিক অবচয় (বিদ্যমান হারের চেয়ে বাড়ানো) ব্যবস্থা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

কাঁচামালের অবচয় নির্ধারণের লক্ষ্যে ইনপুট কোইফিশিয়েন্ট তথা সহগ নির্ধারণ ইস্যুতে অনেক অভিযোগ রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যানও। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক এবং প্লাস্টিক খাত থেকে এ বিষয়ে অনেক অভিযোগ পাচ্ছি। এটি নিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি, সামাল দিতে পারছি না। মূলত অনেকে শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে পরিমাণের চেয়ে বেশি আমদানি করে এবং স্থানীয় বাজারে চলে যাওয়ায় এটি করতে হয়। তবে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে পর্যালোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এ খাতের উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে ৬৮টি সিরামিক শিল্প (টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার) রয়েছে এবং এ খাতের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, গতকাল থেকে শুরু হওয়া প্রাক বাজেট আলোচনা চলবে পুরো মার্চ জুড়ে। এতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন তাদের দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরবে। এর পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়ও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বাজেট আলোচনা সভা করবে। আগামী জুনের শুরুর দিকে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী।