এলডিসি থেকে উত্তরণ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরামর্শ ডিসিসিআইয়ের

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২১, ২১:৫৩

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ ইস্যুতে জাতিসংঘের ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএন সিডিপি) কমিটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাদের দ্বিতীয় পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে সুপারিশ করায় অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা সফলভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি করার ওপর জোর দিয়েছে ডিসিসিআই। বিশেষত দক্ষতার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) কিংবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করার কথা বলেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বাণিজ্য মধ্যস্থতায় দক্ষতা অর্জন, ট্রিপস চুক্তির শর্তাবলি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি গ্রহণ করা, হাই ভ্যালু প্রডাক্ট ডিজাইন ও ইনোভেশন সেন্টার স্থাপন, আন্তর্জাতিক মান স্বীকৃতি গ্রহণে সহায়তা করা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার বাজার খোঁজা, এফডিআই আকর্ষণে নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, রাজস্ব কাঠামোর আধুনিকায়ন, জিডিপিতে রাজস্বের অবদান (কর-জিডিপি অনুপাত) বাড়ানো, সাপ্লাই চেইন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ডিসিসিআই মনে করছে, এগুলো আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশের স্বার্থ সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো ডিসিসিআইয়ের এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

তিনটি মানদণ্ডের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ইউএনসিডিপি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতির সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো—মাথাপিছু আয় (১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১ হাজার ৮২৭ মার্কিন ডলার), মানবসম্পদ (৬৬ পয়েন্টের বিপরীতে ৭৫ দশমিক ৩ পয়েন্ট) এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা (৩২ পয়েন্টের মধ্যে থাকতে হবে, যেখানে বাংলাদেশের স্কোর ২৭ পয়েন্ট)।

এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ পেলেও বাংলাদেশ ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউরোপসহ কিছু দেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে মেধাস্বত্ব (আইপিআর) এবং ট্রিপস চুক্তির আওতায় শর্ত ও শিল্পের কমপ্লায়েন্স মেনে চলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এছাড়া মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হওয়া, উন্নত দেশগুলো থেকে প্রাপ্ত অগ্রাধিকার ও বিশেষ সুবিধা কমে আসবে, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি হ্রাস পাবে এবং ছোট ছোট স্থানীয় শিল্পে সহায়তা কমে আসতে পারে।

তবে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের সফল উত্তরণের পর বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিংয়ে উন্নতি হবে, বেসরকারি খাত আরো প্রতিযোগী হতে পারবে, উত্পাদিত পণ্যের গুণমান বাড়বে এবং কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বাংলাদেশের আরো দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া এ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সংলাপসমূহে নিজেদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করতে পারবে এবং শক্তিশালী আইপিআর অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ও আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছে ডিসিসিআই।