‘বার্সাগেট কেলেঙ্কারি’র রেশ ধরে গ্রেফতার করা হয়েছে বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউকে। গতকাল বার্তোমেউয়ের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে ক্লাবের প্রধান নির্বাহী অস্কার গ্রাউ ও আইনজীবী রোমান গোমেজ পন্তিকে। খবর সপ্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনাসেরার।
বিষয়টি অনুমিতই ছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আলোতে আসা বার্সাগেট কেলেঙ্কারি নিয়ে বেশ বেকায়দায় ছিলেন বার্তোমেউ। তখন থেকেই কথা হচ্ছিল, যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন তিনি। অবশেষে তাই হলেন। গতকাল সকালে বার্তোমেউর নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে কাতালুনিয়ার পুলিশ ফোর্স -দ্য মোজোস দ’এস্কুয়াদ্রা। একইসাথে বার্সার ক্লাব অফিসেও তল্লাসি চালিয়েছে পুলিশ।
২০২০-র ফেব্রুয়ারি মাসে বার্তোমেউর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, ক্লাবের উপর নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়ে, এমনকি সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলাকে নিয়েও নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে বার্সেলোনা। এই প্রোপাগান্ডা চালাতে ‘আই থ্রি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করেছিল বার্তোমেউ নিয়ন্ত্রিত বার্সেলোনা বোর্ড। গণমাধ্যম এই কেলেঙ্কারির নাম দিয়েছিল ‘বার্সাগেট’। পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু আই থ্রি নয়, আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করেছিল বার্সা কর্তৃপক্ষ।
গত সোমবার সকালে বার্সেলোনার ক্লাব অফিসে আকস্মিক তল্লাসি চালায় কাতালুনিয়ার পুলিশ ফোর্স - দ্য মোসেস দ’এস্কুয়াদ্রা। কাতালনা ক্লাবের সূত্র ধরে কাদেনাসেরা জানিয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়েই ক্লাবটিতে তল্লাসি চালিয়েছে পুলিশ। তল্লাসিতে এই তিনজন বাদে আর কেউ গ্রেফতার হয়েছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ বা কোন স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। এক বিবৃতিতে বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তকাজে পুলিশ ও আইনি কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহায়তা করেছে ক্লাব। বিচারব্যবস্থার প্রতি ক্লাবের পূর্ণ আস্থা আছে বলেও জানানো হয়েছে এই বিবৃতিতে।
গত অক্টোবরে শত সমালোচনা ও ব্যর্থতার দায় ঘাড়ে নিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন বার্তোমেউ। আগামী রবিবার, ৭ই মার্চ তার উত্তরসূচি নির্বাচিত করবে বার্সেলোনা। রবিবারের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনকে সামনে রেখে আবার নতুন এক বিতর্কের সম্মুখীন হলো কাতালান দলটি।
