কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, গ্রেফতারকৃত আট প্রতিবাদকারীর মুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে সারা দেশে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেবে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। শিগিগরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা নতুন কর্মসূটি দেবে। তিন দফা দাবিতে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে নেতারা এ কথা বলেন।
সোমবার পূর্বনির্ধারিত সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ছিল ছাত্রজোটের। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে বের হন জোটের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি কেন্দ ীয় শহিদ মিনার ও দোয়েল চত্বর হয়ে বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে শিক্ষা ভবনের সামনে আসে। সেখানে আগে থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল পুলিশ। কিন্তু নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যান। তারা সচিবালয়সংলগ্ন বিদ্যুত্ ভবনের সামনে গেল ফের পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। সেখানে পুলিশের বাধায় মিছিলটি আর এগোতে পারেনি। বিদ্যুত্ ভবনের সামনে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানে থেকেই বিক্ষোভ সমাবেশ করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ ীয় সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল কবীর, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ ীয় সভাপতি মাসুদ রানা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি আন্দোলন) কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দীন, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার নেতা তাসিন মলিক প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ক্ষমতাসীনরা ছাত্র আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে, তাই বাধা দিচ্ছে। আমরা মুশতাকের হত্যার তদন্ত ও দোষীদের বিচার ছাড়া রাজপথ ছাড়ব না।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ ীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মারা যান লেখক মুশতাক আহমেদ। পর দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি মুশতাকের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল করতে গেলে শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ঐ দিন বাম ছাত্র সংগঠনের সাত নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ‘হত্যাচেষ্টার’ মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া খুলনা থেকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার হন বামপন্থি শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন। তারা সবাই এখন কারাগারে আছেন।
সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের উদ্যোগে মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। আমরা তাদের বিদ্যুত্ ভবনের সামনে থামার জন্য অনুরোধ করেছি। তারা আমাদের অনুরোধ রেখেছে।
