নীলফামারীর জলঢাকায় এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের পর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছেন সেই শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুর রাজ্জাক।
সোমবার ( ১ মার্চ) রাতে জলঢাকা থানায় দুজন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করা হয়। এরআগে, সকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত কলেজ ছাত্রী রিমুকে প্রথমে জলঢাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেদিন দুপুরেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত রুবাইয়া ইয়াসমিন নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের তালুক মানুষমারা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। সে রংপুর কারমাইকেল কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে শোকের মাতম নেমে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। এটি পরিকল্পিত হত্যা।
সোমবার রাতে নিহত রিমুর বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘আমার মেয়ে কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিষয়ে অধ্যয়নরত। করোনাকালে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিজ বাসা থেকে টেংগনমারী প্রাইভেট পড়তে যায়। ঘটনার দিন কচুকাটা ইউনিয়নের ব্রক্ষ্মতল গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর ছেলে ফয়সাল আহমেদ ও ফয়সালের সহযোগী মো. রেজভী হোসেন জোরপুর্বক তাদের মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় আমার মেয়েকে। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজারহাট নামক স্থানে রাস্তায় একটি বালুর ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে আমার মেয়ে মারা যায়।
এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফয়সাল আহমেদ পলাতক রয়েছে। অপর অভিযুক্ত রেজভী সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন সকালে ফয়সাল ও রিমু দুর্ঘটনায় কবলিত হলে ৯টা ৩১মিনিটে ফয়সালের মোবাইল ফোন থেকে আমাকে ফোন করে সহযোগিতা চাওয়া হয়। ফয়সাল আমার পরিচিত হওয়ায় আমি তাকে সহযোগিতা করতে আসি। মঙ্গলবার দুপুরে রিমুর লাশ ময়না তদন্ত শেষে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। বিকাল ৫টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তার বাবা একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন তদন্ত চলছে।
ইত্তেফাক/এসআই
