গতকালের পর
যত চাও তত লও তরণী-পরে।
আর আছে আর নাই দিয়েছি ভরে।।
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়েছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে-
এখন আমারে লহো করুণা করে।।
কৃষক তার ছোট জমিতে উত্পন্ন ফসলের সমস্তটাই স্তরে স্তরে সেই নৌকায় তুলে দেয়। এবার মাঝি যদি তাকে করুণা করে সেই তরীতে তুলে নেয় তাহলে কৃষক রক্ষা পায়।কিন্তু মাঝি তাকে নেয় না। তার সোনার ধান নিয়ে তরী অজানা দেশে চলে যায়।
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই-ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণ গগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি -
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।
সেই তরীতে কৃষকের স্থান হয় না। কারণ কৃষকের সোনার ধানে ছোট সেই তরী ভরে গিয়েছে। শ্রাবণের আকাশে মেঘ জমে। ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে আসে। কৃষক সেই পরিবেশে শূন্য নদীর তীরে একা পড়ে থাকে। কৃষক এখানে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে অনিবার্য মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে। কারণ মহাকালের চিরন্তন স্রোতে মানুষ অনিবার্য বিষয়কে এড়াতে পারে না; কেবল টিকে থাকে তার সৃষ্ট সোনার ফসল। এমনিভাবে কবির সৃষ্টিকর্ম কালের সোনার তরীতে স্থান পেলেও ব্যক্তি কবির স্থান সেখানে হয় না।
চ) অনুধাবন প্রশ্নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চরণসমূহ:
’ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা’
‘চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা’
‘ছোট খেত, আমি একেলা’
‘গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে! দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।’
‘ঢেউগুলি নিরুপায়, ভাঙ্গে দু’ধারে’
‘এখন আমারে লহো করুণা করে’
‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই-ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছি ভরি।’
‘শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি-
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।’
