নিজেকে মিউজিশিয়ান হিসেবেই দেখতে চাই

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ২১:০১

জনপ্রিয় মিউজিশিয়ান ও সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষ বর্তমানে নিজের একক গান ও চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এছাড়া তৌকীর আহমেদের ‘স্ফুলিঙ্গ’ ছবিটির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে তার। ছবিতে অভিনয় ও নিজের সংগীত ভাবনা নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

গুণী নির্মাতা তৌকীর আহমেদের হাত ধরে চলচ্চিত্রে অভিষেক হচ্ছে আপনার। তার সঙ্গে অভিনয়ের আগেও একাধিক কাজ করেছেন। অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তৌকীর ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করলে তো অনেক উঁচুমানের অভিজ্ঞতা হয়। আর এবার তো অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। কারণ ‘স্ফুলিঙ্গ’ ছবিটিতে একজন মিউজিশিয়ানের পাশাপাশি অভিনয়ের সঙ্গেও থাকতে হয়েছে। যেহেতু এটা মিউজিক্যাল ছবি, তাই তার সঙ্গে এক ধরনের সহযোগী হিসেবেও কাজের সুযোগ হয়েছে। এটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। তাছাড়া কাজকে মূল্যায়ন করার বিষয়টিও শিখেছি তৌকীর ভাইয়ের কাছ থেকে।

‘স্ফুলিঙ্গ’ ছবির একটি গান বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ৯০-এর দশকের ব্যান্ড ঘরানায় গানটি করেছেন। যেমনটা আমাদের ছবিতে সাধারণত করা হয় না। এ ধরনের গান করার গল্পটি জানতে চাচ্ছি—

৯০-এর দশক আমাদের মিউজিকের সোনালি দিন ছিল। এখনো নতুন কোনো ব্যান্ড বা সংগীতশিল্পী কিন্তু সেই সময়ের গানগুলোই কাভার করে। সেই সময়ের গানগুলোই কিন্তু তাদের নাড়া দেয় বা তারা তেমনই কিছু করতে চায়। আমরাও কিন্তু ছাত্রাবস্থায় আমাদের সময়ের আগের শিল্পীদের গানই গাইতাম। সেই ভাবনা থেকেই এই গানটি করা। সফট মেলাডি ধাঁচের এই গানটি এমনভাবে করেছি যেন ৯০-এর দশকে ছোঁয়াও থাকে, আবার সবাই সহজে গাইতেও পারে।

আপনি চিরকুট ব্যান্ডে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এরপর আপনি একক গান প্রকাশ করলেও শ্রোতারা আপনাকে ব্যান্ডমুডে চেনে। সেক্ষেত্রে নতুন কোনো ব্যান্ড গড়ার ইচ্ছে আছে কি-না?

আসলে নতুন কোনো ব্যান্ড গড়ার ইচ্ছে এখন অবধি আমার নেই। তবে নিজের একক গান নয়, ইচ্ছে আছে অ্যালবাম করার। দর্শক-শ্রোতারা কিন্তু আমাকে ভালোবাসেন। তাই আমার মনে হয় আমি যেভাবে তাদের কাছে আসি তারা সেভাবেই আমাকে গ্রহণ করবেন।

চিরকুটে জনপ্রিয় থাকা অবস্থায় ব্যান্ডটি ছেড়েছেন। জনশ্রুতি আছে আপনাকে সেভাবে সুযোগ না দেওয়ায় ছেড়েছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

জনশ্রতির মাধ্যমে কিন্তু সবাই বিষয়টি জেনে গেছে। সাকিব আল হাসানকে বসে রাখলে যেমন হবে, আমার ক্ষেত্রেও তেমন হয়েছে। বসে রাখলে তার জন্য তো খারাপ, তাই না? শিল্পের জায়গায় জং ধরে যাবে। আরেকটি কারণ হলো-তারা তখন প্রচার করতো যে, আমি ব্যক্তিগত কারণে ব্যস্ত আছি, তাই কনসার্টে অংশ নিচ্ছি না। কিন্তু আসল কথা হলো-তারা আমাকে না জানিয়েই বিভিন্ন জায়গায় প্রোগ্রাম করেছেন। তারা আমাকে হাতে না মেরে ভাতে মারতে চেয়েছিল। তাই আমার পথ আমি খুঁজে নিয়েছি।

আপনাকে গল্পনির্ভর ছবিতে কাজ করতে দেখা গেলেও অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি নির্ভর ছবিতে দেখা যায় না। এর কারণ কী? অফার পান না, নাকি অন্য কোনো কারণ আছে?

না, আসলে বিষয়টি তেমন না। এর আগে আমি অ্যাকশন ছবিতেও মিউজিক করেছি। তবে গল্পনির্ভর ছবিতে কাজ করা অনেক সেনসেটিভ এবং নিজের ক্রিয়েটিভিটি দেখানোর সুযোগ থাকে। তাই হয়তো এই ধরনের কাজে আমাকে বেশি দেখা যায়। যে পরিচালকরা ভাবেন তার ছবিতে একটু সেনসিটিভ মিউজিক লাগবে তারা আমাকে ডাকেন। আসলে এ ধরনের কাজ করতে বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

মিউজিক থেকে অনেকেই অভিনয়ে আসেন। এটা কী মিউজিকে অবস্থান ঠিক না থাকার কারণে, নাকি ক্যারিয়ার সংকটে?

অন্যদের কথা তো আমি বলতে পারি না, তবে নিজেরটা বলতে পারি। আমার ক্ষেত্রে হয়েছে যে, এই চরিত্রটিই একজন প্রফেশনাল মিউজিশিয়ানের। চরিত্রটি একজন অভিনেতাকে দিলে তাকে অভিনয় করে বোঝাতে হতো, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কিন্তু তা হয়নি। কারণ আমি ওই চরিত্রের ভেতরেই ছিলাম। এটাই আসলে কারণ ছিল অভিনয়ে আসার। তবে অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছেও নেই।

মিউজিশিয়ানের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও আপনার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এবার এলেন অভিনয়ে। আসলে কোন পরিচয়ে নিজেকে দেখতে চান?

নিজেকে মিউজিশিয়ান হিসেবই সারাজীবন ভাবতে চাই এবং দেখতে চাই। এর বাইরে চিন্তা করি না।