ভূরুঙ্গামারীতে ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিল

সেচ দেওয়া নিয়ে বিপাকে কৃষক

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ২১:৫৫

ভূরুঙ্গামারীর প্রায় দেড় হাজার সেচ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুত্ অফিসের ভূতুড়ে বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুতের সাবেক এক এলাকা পরিচালক জানান, সেবা গ্রহণের পরিবর্তে, ভোগান্তি নিরসনের জন্যই মানুষ এখন পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে ভিড় করে। জানুয়ারি মাসের বিল সিটে তার নিজের সেচযন্ত্রের জন্য প্রায় ৬ হাজার ইউনিট অতিরিক্ত যোগ করে ২২ হাজার ৯৩৫ টাকার বিল করা হয়েছে। যা ব্যবহূত ইউনিটের চেয়ে ১৩৩ গুণ বেশি।

গত বৃহস্পতিবার সরজমিনে পল্লী বিদ্যুত্ অফিসের সামনে ভিড় করা  ভুক্তভোগী সেচ গ্রাহকদের বিল সিট পরীক্ষা করে তাদের বিল সিটে ২০০ থেকে ৬ হাজার পর্যন্ত অতিরিক্ত ইউনিট যোগ করে ভূতুড়ে বিল প্রস্তুত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। উপজেলার বাগভান্ডারের ভুক্তভোগী গ্রাহক আমির হোসেন জানান, বিল সংশোধনের জন্য সব কাজ ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ভূতুড়ে বিল তৈরি করা পল্লী বিদ্যুতের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।

এ সময়  উপজেলার দক্ষিণ ছাট গোপালপুরের কৃষক সাইফুর রহমান, বাগভান্ডার গ্রামের  আমজাদ হোসেন, মইদাম এলাকার মহির উদ্দিন, খামার বেলদহের শাহা আলম, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেক সেচ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত ভুয়া বিলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভূতুড়ে বিল করা হয়েছে। 

ভূরুঙ্গামারী পল্লী বিদ্যুত্ অফিসের ডিজিএম কাওসার আলী জানান, এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। বিল রিডারদের ভুলেও এমনটা হতে পারে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে ভুলগুলো সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। বিল রিডিং ইন্সপেক্টর ফাইজুল ইসলাম জানান, ভুল রিডিং জমা দেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। তবে অনিচ্ছাকৃত দুই-চারটা ত্রুটি হতে পারে। কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জিএম স্বদেশ কুমার জানান, এমনটা হওয়া অপরাধ। অতিরিক্ত বিল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।