সর্বস্তরের শ্রদ্ধায় লিলি চৌধুরীর শেষ বিদায়

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ২২:২২

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায় নিলেন বিশিষ্ট নাট্যাভিনেত্রী ও শহিদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর সহধর্মিণী লিলি চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে লিলি চৌধুরীতে নিবেদিত নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলির আয়োজন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে ছেলে মিশুক মুনীরের কবরে সমাহিত করা হয় লিলি চৌধুরীকে। সোমবার বিকালে বনানীর বাসভবনে মারা যান লিলি চৌধুরী।

লিলি চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মঞ্চনাটকের পথ যারা করে দেন, তাদের অন্যতম লিলি চৌধুরী। প্রিয়জন হারানোর দুঃখ নিয়ে বেঁচে ছিলেন লিলি চৌধুরী। আমরা যেন লিলি চৌধুরীর অবদানকে ভুলে না যাই। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ৫০ বছর আগে বিজয়ের মাসে মুনীর চৌধুরীকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদাররা। আর ৫০ বছর পরে লিলি চৌধুরী স্বাধীনতার মাসে চলে গেলেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নানা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে এই পরিবারটি।

নাট্যভুবনে লিলি চৌধুরীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণ যখন অস্বস্তিকর সময় পার করছিল, তখন বাতিঘর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন লিলি চৌধুরীর মতো মানুষেরা। সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, নারীদের অভিনয় জগতের পথপ্রদর্শক তিনি। শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন লিলি চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর। এছাড়া লিলি চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার, অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, উদীচীর সহসাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহাসহ অনেকে। এদিকে লিলি চৌধুরীর মৃত্যুতে গতকাল গভীর শোক জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এক বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।