দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যাকাণ্ড, থানা ও কারা হেফাজতে মৃত্যু ও পুলিশি হয়রানি, অপহরণ এবং চাঁদাবাজির মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যৌন হয়রানি, নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘটনা বরং ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে যাচ্ছে। নির্বাচনি সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা, সীমান্তে হত্যা-নির্যাতন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও নির্যাতন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গ্রেফতার সর্বোপরি নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বদলে রাষ্ট্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন করার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। রবিবার মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের ফেব্রুয়ারি মাসের জরিপে এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছে।
কারা হেফাজতে মৃত্যু : ফেব্রুয়ারি মাসে কারা হেফাজতে পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কাশিমপুর কারাগারে দুই জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নীলফামারী ও কিশোরগঞ্জ কারাগারে একজন করে মারা যান। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে একটি সেলে ধর্ষণ মামলার এক আসামির হামলায় আবদুল হাই নামে এক বন্দি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন জাহাঙ্গীর নামে আরো এক বন্দি।
হত্যাকাণ্ড ও থানা হেফাজতে মৃত্যু : ফেব্রুয়ারি মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন সাত জন। কথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে কক্সবাজারের, বান্দরবন ও ঢাকার কেরানীগঞ্জে পৃথক চারটি ঘটনায় বিজিবি ও র্যাবের ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে ছয় রোহিঙ্গাসহ মোট সাত জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে এক জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সীমান্তে হত্যা-নির্যাতন : ফেব্রুয়ারি মাসে সীমান্তে হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন পাঁচ জন। এর মধ্যে এক জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং চার জন শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা : ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৫৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ১২৫টি, গণধর্ষণ ১৮টি, ধর্ষণ ও হত্যা ছয়টি এবং প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১ জন।
