রংপুর মেডিক্যালে তরুণীর লাশ ফেলে পালালেন তরুণ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ২৩:১০

নীলফামারীর সদরে দুই যুবকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ ও মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি নিহত ব্যক্তির স্বজনদের। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সোমবার বেলা ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক তরুণীকে নিয়ে আসেন এক তরুণ। এরপর রুবাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সকেরা। তার মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান ঐ তরুণ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম রুবাইয়া ইয়াসমিন রিমু। তিনি রংপুরের কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। সোমবার দুপুরে নীলফামারী জেলা সদরের কচুকাটা গ্রামে অপহরণের পর এ ঘটনা ঘটে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবেশী        আবদুল্লাহ হোসেনের ছেলে ফয়সাল এবং জাহিদুল হোসেন মাস্টারের ছেলে রিজভীকে দায়ী করেছেন নিহত ব্যক্তির পরিবারের লোকজন। অভিযুক্ত দুই জনই ঐ শিক্ষার্থীর নিকটতম প্রতিবেশী বলে জানা যায়। হত্যাকাণ্ডের শিকার রিমুর বাবা আবদুর রাজ্জাক স্থানীয় ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানান, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে কলেজ বন্ধ থাকায় গ্রামের বাড়িতে থাকা অবস্থায় টিউশনি করত রিমু। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে টিউশন করাতে যাচ্ছিল। এ সময় পথরোধ করে স্থানীয় ফয়সাল ও রিজভী রিমুকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। তিনি আরো জানান, মেয়েকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার পথে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে, এ রকম সংবাদ তাদের কাছে আসে। পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কে বা কারা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রিমুর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন।

এ ঘটনা জানার পর সন্ধ্যার পর রাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন রিমুর পরিবারের লোকজন। হাসপাতালে এসে তারা রিমুর মরদেহ শনাক্ত করেন। বর্তমানে লাশটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। রিমুর মা লিলি আখতার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফয়সাল আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি ফয়সালের পরিবারকে জানালে রিমুর ভাইয়ের সঙ্গে ফয়সাল ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এরই জের ধরে সোমবার ফয়সাল আমার মেয়েকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। নীলফামারীর জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলা হলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।