উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিংগাইর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মো. ফারুক হোসেন মিরু (২১) খুন হয়েছেন। মিরু পৌর এলাকার আজিমপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। গত সোমবার রাতে উপজেলা পরিষদের পাশে পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে দুর্বৃত্তরা দা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপালে তিনি গুরুতর আহত হন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান বলেন, এমপি মমতাজ বেগমের বাড়ি থেকে গান শুনে সিংগাইরে আসার পথে আমি মিরুকে ঘটনাস্থলে এভাবে দেখতে পাই। সে তখন বলে, মমতাজ বেগমের বাড়ি থেকে বাসায় ফেরার পথে উপজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সেক্রেটারি জালাল উদ্দিন আংগুর ও তার ছোট ভাই ছাত্রলীগ কলেজ শাখার সভাপতি দুলাল মোল্লাসহ আরো ১০/ ১২ সন্ত্রাসী দুটি সিএনজি অটোরিকশায় এসে তার মোটরসাইকেলটিকে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে এখানে ফেলে রেখেছে। তখন আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শহিদ বলেন, দুই ভাই দুলাল আর আংগুর আগে বিএনপি ছিল। ওরা আওয়ামী লীগে এসে চাঁদাবাজি করে। বাসস্ট্যান্ডের টাকা ভাগবাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব ছিল মিরুর সঙ্গে। কিছু দিন আগে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে আমি এবং পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র বাশার মীমাংসা করে দেই। সেই ঘটনার জের ধরে ওদের সঙ্গে বিএনপির ছেলেরা মিলে মিরুকে হত্যা করেছে। সিংগাইর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবু নাঈম মো. বাশার বলেন, দুলালকে আগে মিরু মেরেছিল। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব তাদের। দুলাল ও তার ভাই আংগুর গং মিলেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। একই কথা জানান, মিরুর বড় ভাই রিয়াজুল করিম হিরু।
থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান বলেন, আমি মমতাজ বেগমের বাড়ি থেকে গান শুনে প্রাইভেটকারে থানায় আসার পথে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে সেলাই ব্যান্ডেজ করে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেই। তিনি আরো বলেন, মিরুকে আমি আগেই সতর্ক করেছিলাম একা না চলার জন্য। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
