জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সৌদি যুবরাজকে ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ২৩:১১

সৌদি আরবের নির্বাসিত সাংবাদিক এবং ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলামিস্ট জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করা হয়েছিল মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে ৭৬ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এমনকি তার ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেকেও সমালোচনায় মুখর। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর সিএনএন, ডয়চেভেলে ও আলজাজিরার

 হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ভবিষ্যতে আবার যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য অনেক পথ খোলা আছে। আবার সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রর স্বার্থ রক্ষাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ইয়েমেন যুদ্ধে সমর্থন প্রত্যাহারের মাধ্যমে       যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করেছে। সবকিছুই স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে দাবি করে প্রেস সেক্রেটারি বলেন, পূর্বসূরি প্রেসিডেন্টদের অনুসরণ করেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন সরাসরি যুবরাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেননি। সাকি দাবি করেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসে ডেমোক্রেটিক এবং রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টরা ক্ষমতাসীন সরকারের কোনো নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বলে রেকর্ড নেই। এমনকি ঐসব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক।

সাকির এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিকসের সিনিয়র ফেলো গ্যারি ক্লিড হাফবিউর। তিনি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, লিবিয়ার তত্কালীন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ মিয়ানমারের তত্কালীন নেতা থায়েন শ, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো এবং জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন।

ওয়াশিংটনে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে সঠিক পথে সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরানো নয়, পুনরুদ্ধার করা। তিনি বলেন, যুবরাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খর্ব হবে।  

জার্মান আদালতে মামলা

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে জার্মানির একটি আদালতে মামলা করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বা আরএসএফ। এছাড়া সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ৩৪ জন সাংবাদিককে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোমবার জার্মানির কালসরুহের অন্যতম শীর্ষ কেন্দ্রীয় আদালতে মামলাটি করেছে আরএসএফ। খাশোগিকে গুপ্ত হত্যা এবং অন্য সাংবাদিকদের গ্রেফতারের পেছনে তার ভূমিকা রয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে। খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় যুবরাজ সালমানসহ সৌদি আরবের আরো চার জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে আরএসএফ। খাশোগিকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে যুবরাজ সালমান জড়িত ছিলেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশের চার দিন পরই এই মামলা হয়।