এ সরকারের অধীনে আর নির্বাচনে যাবে কি না ভাবছে জাপা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ০০:২৬

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলগতভাবে না যাওয়ার ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এমনকি স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনেও আর অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির পর এবার সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও (জাপা) জানাল, এই সরকারের অধীনে জাপা আর নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না, সেটি দলের প্রেসিডিয়াম বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত রবিবার অনুষ্ঠিত সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ তুলে ধরতে গতকাল মঙ্গলবার জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে জাপা আর কোনো নির্বাচনে যাবে কি না, তা দলের আগামী প্রেসিডিয়াম সভায় সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জিতেছে আর হেরেছে দেশের ভোটাররা। ভোট দিতে না পেরে ভোটাররা রাস্তায় কান্না করছেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। নির্বাচনের নামে চলছে প্রহসন। নির্বাচনে ইভিএমে শতভাগ ভোট পড়ছে, এটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। ইভিএমকে ‘আওয়ামী ইভিএম’-এ পরিণত করা হয়েছে। ইভিএম নয়, ইভিএম পরিচালনায় জড়িতদের পরিবর্তন করতে হবে। বাবুল বলেন, আওয়ামীতন্ত্র আর গণতন্ত্র একসঙ্গে চলতে পারে না। ভোটের নামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও কেন্দ্র দখল হচ্ছে, ঘটছে মানুষের প্রাণহানি। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে জাপা প্রয়োজনে প্রাণ দেবে, কিন্তু মাথা নত করবে না। প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করতে জাপার সংগ্রাম চলবে। নির্বাচনের নামে সন্ত্রাস, হানাহানি আর খুনোখুনি বন্ধ করে ডিজিটাল গেজেটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অন্তত দেশ নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে।

জিয়াউদ্দিন বাবলু বলেন, সৈয়দপুর পৌর নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে অনুরোধ করেছি। তারা সবাই সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও হয়েছে উলটো।’ ইসির পদত্যাগ চান কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান ইসির লাজলজ্জা থাকলে তাদেরই উচিত সিদ্ধান্ত নেওয়া। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাষার মাসেও মানুুষ কথা বলতে পারছে না। গণমাধ্যম ভয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে পারছে না।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দপুর পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জাপার মো. সিদ্দিকুল আলম (সিদ্দিক) বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সরকার পরিবর্তন হয় না। তার পরেও আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করছে। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব এটিইউ তাজ রহমান বলেন, প্রমাণিত হয়েছে এই ইসি মেরুদণ্ডহীন। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তারা কার্টুনের মতো আচরণ করছেন আর পুলিশ প্রশানের আচরণ আওয়ামী লীগের কর্মীদের মতো। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া বলেন, যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে, তাতে গণতন্ত্রের ভাগ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু ও মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক এইচ এম আসিফ শাহরিয়ার।