জয়পুরহাটে হঠাত্ করেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৬১ জন রোগী জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত এক মাসে ভর্তি হওয়া ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ জন। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। জেলা আধুনিক হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে হঠাত্ করেই জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। ফেব্রুয়ারি মাসে রোগীর সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। গতকাল বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চিকিত্সার জন্য ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন রোগী। এদের মধ্যে রয়েছে ২৭ শিশু। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি করোনা রোগীদের চিকিত্সার জন্য বরাদ্দ রাখায় বেড স্বল্পতা রয়েছে বলে জানান জেলা আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডায়রিয়া হলে সদর উপজেলার তুলাট গ্রামের ১০ মাসের শিশু রমজানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশু রমজানের মা রহিমা বেগম জানান, গত সোমবার হঠাত্ করে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। জয়পুরহাট পৌর এলাকার চিত্রাপাড়া মহল্লার মা বৃষ্টি মণ্ডল তার এক বছরের শিশুপুত্র অয়ন মণ্ডলকে রবিবার ভর্তি করে চিকিত্সা করাচ্ছেন।
সিনিয়র নার্স খালেদা আখতার ও নাছিমা সুলতানা জানান, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ডায়রিয়া রোগী চিকিত্সা নিতে আসছে। এদের মধ্যে শিশু বেশি। জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা আধুনিক হাসপাতালের চিকিত্সা নেওয়া ডায়রিয়া রোগী বাদেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রায় ৫০০ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিত্সা নিয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক (আরএমও) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া রোগী বেড়েছে। পাতলা পায়না ও বমি শুরু হলে শিশুকে মুখে খাবার স্যালাইন বারবার খাওয়ানো ও মায়ের বুকের দুধও খাওয়াতে হবে।’ সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করারও পরামর্শ দেন তিনি।
