গরম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রায়পুর উপজেলাসহ পৌর মানুষের জনজীবন। এক সপ্তাহ ধরে দিনে ছয় থেকে সাত বার লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এতে সময়মতো বোরো চাষে পানি দিতে পারছেন না কৃষকরা। শিক্ষার্থী, সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে পৌর ও উপজেলায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুত্ সরবরাহের পর টানা তিন ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। দিন ও রাতে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। উপজেলা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলায় প্রায় ৪৫ হাজার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এছাড়া সেচের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক। পুরাতন লাইন সংস্কার কাজ করায় কয়েকটি স্থানে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পৌর শহরের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম মুরাদ, জাহাঙ্গীর হোসেন টিটু ও জাকির হোসেন সোহেলসহ একাধিক গ্রাহক বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে বিদ্যুত্ চলে যায়, আসে বিকাল চারটার দিকে। বিদ্যুত্ কখনো এলেও আবার কিছুক্ষণের মধ্যে চলে যায়। গরম শুরু হতে না হতেই লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরের কাজকর্ম করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বাচ্চাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও বাসা-বাড়ির ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইপিএসে চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না।’
রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, ‘বিদ্যুতের অস্বাভাবিক আসা-যাওয়ার কারণে পৌরবাসীকে ঠিকমতো পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পানির জন্য বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে বাধ্য হয়ে পৌরসভার সব কক্ষে আইপিএস বসানো হচ্ছে।’ রায়পুর পল্লী বিদ্যুত্ কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আলী হাসান মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পৌর শহরের ধানহাটা সড়কে পুরোনো লাইনের কাজের কারণে মাঝেমধ্যে লাইন বন্ধ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আপাতত কিছুই করার নেই। তবে শিগিগর সংকট কেটে যাবে।’
