খালেদা জিয়ার সাজা মওকুফের আবেদন পরিবারের

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ২৩:০৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেওয়া জামিনের শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি দণ্ডাদেশ মওকুফ করার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনপত্রে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিত্সারও অনুমতি চেয়েছে তার পরিবার। মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইসকান্দার এ আবেদন জমা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করে সেটি সচিবের দপ্তরে পাঠিয়ে দেন।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি            চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি দণ্ডাদেশ মওকুফ করার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। আমরা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাব। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাত্র মঙ্গলবার চিঠি পেয়েছি। আবেদনে সাজা মওকুফ করে উন্নত চিকিত্সার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার জননী। আমরা আশা করছি, তিনি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেবেন।

প্রসঙ্গত, ৭৬ বছর বয়সি খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানে তার ভাড়া বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন। তিনি আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় কারাজীবন শুরু করেন খালেদা জিয়া। এরপর ৩০ অক্টোবর এ মামলায় আপিলে তার আরো পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

এর মধ্যে বিশ্ব জুড়ে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২৫ মার্চ হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি বাসায় ফেরেন। মুক্তির শর্তের মধ্যে রয়েছে, জামিনে থাকাকালীন তিনি চিকিত্সার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না। গুলশানের বাসায় থেকেই চিকিত্সা নিতে হবে। এদিকে ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এর আগেই পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়। পরে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেওয়ায় গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আরো ছয় মাসের জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ে। আগামী ২৫ মার্চ সেই মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এজন্য গত মঙ্গলবার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়।