১৩ গণতন্ত্রপন্থি নিহত

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ২৩:১২

প্রতিবেশী দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করে ফের বিক্ষোভে গুলি চালাল মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। গতকালের গুলিতে ১৩ জন নিহত হয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে এ নিয়ে ৩৫ জনের প্রাণ গেল। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ক্ষমতা আঁকতে থাকতেই বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে সরকার। খবর রয়টার্সের

এক দিন আগে প্রতিবেশী দেশগুলো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি না চালাতে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি সরকার বরং গতকাল বিক্ষোভকারীদের প্রতি ব্যাপক ক্ষিপ্ত দেখা যায় নিরাপত্তা বাহিনীকে। গতকাল দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। তরুণ বিক্ষোভকারী থিনজার শুনলেই ই ম্যাসেজিং অ্যাপে জানান, এটা ভয়াবহ এবং গণহত্যা। এই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করে বোঝানো যাবে না। সামরিক সরকারের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

মনবায়া গেজেটের সম্পাদক কো থিট সার বুধবার মনবায়া শহরে বিক্ষোভে গুলিতে পাঁচ জন নিহত হয় যার মধ্যে চার জন পুরুষ এবং এক জন নারী। পরিবারের সদস্য এবং চিকিত্সকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রধান শহর ইয়াংগুনে বিক্ষোভে প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিন জন নিহত হয়। ২৩ বছর বয়সি কৌং পায়ে সন তুন জানান, আমি একটানা কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। আমি রাস্তায় শুয়ে পড়েছিলাম। ঘটনাস্থলেই দুই জনকে মারা যেতে দেখেছি। এই শহরে ৩০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মান্দালয় শহরে গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভে চালানো গুলিতে দুই জনের প্রাণ গেছে। আর পাকান্ত শহরে গুলিতে মারা গেছে দুই জন। ইয়াংগুনের চার্চবিশপ কার্ডিনাল চার্লস মং বো জানান, মিয়ানমারের অনেক শহর যেন চীনের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে পরিণত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে এই স্কোয়ারে ছাত্রদের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কয়েক হাজার মারা গিয়েছিল।

এক দিন আগে মঙ্গলবার সাউথ ইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস বা আসিয়ানভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিক্ষোভে গুলি না চালাতে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে অং সান সুচির মুক্তি দাবি করতে ব্যর্থ হন। ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি না চালাতে মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কারাবন্দিদেরও মুক্তি দাবি করেন।

জাতিসংঘে মিয়ানমারের দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব

মিয়ানমারের জাতিসংঘ দূত পদ নিয়ে অং সান সুচি এবং সামরিক জান্তার প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘে মিয়ানমারের দূত কিয়ো মো তুন সামরিক অভ্যুত্থানের সমালোচনা করে তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপর তাকে সামরিক জান্তা সরকার বরখাস্ত করে। সরকারের পক্ষ থেকে উপ-রাষ্ট্রদূতকে নিয়োগ দেওয়ার কথা এক চিঠিতে জানানো হয়েছে। আবার কিয়ো মো তুন এক চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছেন, তিনি এখনো জাতিসংঘে মিয়ানমারের দূত। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, এমন পরিস্থিতি বহুদিন জাতিসংঘে দেখা যায়নি।