‘শিল্পীরা সব ক্ষেত্রেই বঞ্চিত’

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২১, ২১:০৮

সংগীতশিল্পী পুলক অধিকারী নিজের একক গানের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও নিয়মিত কাজ করছেন। নিজের কাজ ও ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

চলমান কাজ নিয়ে জানতে চাচ্ছি—

‘অন্যন্যা প্রতিভা’ নামের একটি রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক হিসেব কাজ করছি। ২৬ মার্চ ও পহেলা বৈশাখ নিয়ে নতুন দুটি গানের কাজ চলছে। পাশাপাশি  নিয়মিত শো করছি। এছাড়া সম্প্রতি ৩টি গান রিলিজ দিলাম এবং একটি নাটকের গানও করলাম।

আপনি সুফি ঘরানা ও চলচ্চিত্রের গানে বেশি কণ্ঠ দিয়েছেন। কোন মাধ্যমে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

আমি সব ধরনের গানই করি। আমার কাছে মাধ্যম কোনো ব্যাপার না। ভালো গান করতে চাই, সেটা যে মাধ্যমেই হোক। তবে চলচ্চিত্রের গান করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে গানকে পেশা হিসেবে নেওয়া কতটা ইতিবাচক বলে মনে করেন?

গানকে পেশা হিসেবে এদেশে নেওয়াই অনেক কঠিন। সেভাবে সুযোগ এখানে দেওয়া হয় না। বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে। আমিও অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে এসেছি। তবে যারা সফল হন তাদের জন্য পেশা হিসেবে ঠিক আছে, কিন্তু যারা ব্যর্থ হন তাদের কোনো কূলই থাকে না। যদি শিল্পীরা তাদের প্রাপ্য সম্মানী পান তাহলে পেশা হিসেবে নেওয়াই যায়। কিন্তু শিল্পীরা সব ক্ষেত্রেই বঞ্চিত।

এ ধরনের গানের চর্চা অন্যান্য গানের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে ব্যর্থ কেন? ভালো শিল্পী, নাকি সুযোগের অভাব?

এখনকার সময়ে আসলে নাটক বা গান একটা ট্রেন্ডে চলে। যখন যেটার চল, সবাই সেই কাজই করেন। শিল্পীরা নিজেস্ব ধারা বা ভালোলাগার গান ছেড়ে ট্রেন্ডে গা ভাসান। তাই হয়তো সুফি গান অনেক পিছিয়ে আছে।

যারা রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসেন তারা অনেকেই পরে নিজের অবস্থা ধরে রাখতে পারেন না। এ বিষয়ে কী বলবেন?

যারা তাড়াতাড়ি জনপ্রিয়তা চায়, টাকা আয় করতে চায়, ধৈর্য ধরতে পারে না তারা ঝরে যায়। টিকে থাকতে হলে ধৈর্য ধরতেই হবে। যদি কেউ শিল্পকে ভালোবেসে সততা আর পরিশ্রম দিয়ে কাজ করে তবে সফল সে হবেই।

অনেকেই ভিউ গুণে গানের মান বিচার করেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

ভিউ ও গান দুটিই দরকার। তবে আমি ভিউ গুণে গানের মান বিচার করার পক্ষে না।

সংগীত ইন্ডাস্ট্রির  সার্বিক অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আমাদের সংগীত ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন বানরের হাতে মশাল দেওয়ার মতো। অযোগ্য লোকের হাতে ক্ষমতা চলে গেছে। শিল্প চর্চার জায়গায় এখন সবাই ব্যবসা খুঁজছে। শিল্প চর্চার জায়গা থেকে আমরা সরে এসেছি।