মিয়ানমারে গণগ্রেফতার চলছে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২১, ২২:৫৫

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণগ্রেফতার চলছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে রাতের আঁধারেও গ্রেফতার করা হচ্ছে অনেককে। গতকাল পর্যন্ত ২৯ সাংবাদিকসহ ১ হাজার ৭০০ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবারের রক্তাক্ত দিনের পর গতকাল বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ হয়েছে। তবে গতকাল শোকে স্তব্ধ ছিল মিয়ানমার। খবর রয়টার্স ও সিএনএনের

গত পহেলা ফেব্রুয়ারির পর বুধবার ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন। মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান মিচেল ব্যাচলেট শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর অন্তত ৫৪ জন মানুষের প্রাণ গেছে। ১ হাজার ৭০০-এর বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের মধ্যে ২৯ জন সাংবাদিক রয়েছেন। ব্যাচলেট এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীকে হত্যা এবং বিক্ষোভকারীদের জেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সমালোচকরা বলছেন, মিয়ানমার এখন যুদ্ধাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বুধবারের হত্যাযজ্ঞের পরও বিক্ষোভ থামেনি। গতকালও বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। মং সাউং খা নামের এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, আমরা জানি রাস্তায় নামলে গুলি খেতে হবে এবং মরতে হবে। কিন্তু তার পরও আমরা জান্তা সরকারের অধীনে বাঁচতে চাই না। গতকাল ইয়াংগুন, মনবায়া ও পাথেইনসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে। কোথাও কোথাও গুলিও ছুড়েছে। গতকাল বুধবার নিহত অনেকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে স্থানীয় পরিবেশ। তারা সামরিক জান্তাবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং বলেন, একদিন সবই ঠিক হয়ে যাবে।