মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেছেন, দেশের মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অন্যায়-অনিয়ম পাওয়া গেলে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন জাদিমুড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই কেজি ওজনের আইসের (মাদক) চালান জব্দ করা হয়। জব্দ করা এ আইসের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকা। এ উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মহাপরিচালক বলেন, ‘এ সময় আব্দুল্লাহ নামে এক জনকে গ্রেফতার করা হলেও তার আরেক ভাই রহমান পলাতক রয়েছে। চালানটি থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশে আসে। তবে এটির গন্তব্য কোথায় ছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। সম্প্রতি রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটে হলি লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদাবরের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এর আগে পুলিশের এক জন সিনিয়র এএসপি নিহত হয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে। এছাড়া মালিবাগের হলি লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে মারা যাওয়া ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে আমাদের টিম গিয়েছিল। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৯টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছি। যেসব মাদক নিরাময় কেন্দ্রে অন্যায় পাওয়া যাবে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অস্ত্র ও মোবাইল ট্র্যাকারের ব্যাপারে ডিজি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবের তত্ত্বাবধানে একটি কমিটি রয়েছে। এ কমিটি বিচার-বিশ্লেষণ করছে কীভাবে আমাদেরকে অস্ত্র দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই মোবাইল ট্র্যাকার প্রয়োজন। খুব সহজে এর সাহায্যে আমরা অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পারব।’
মন্ত্রিসভা থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কী কারণে অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাদক ব্যবসার প্রবণতা রয়েছে। সেজন্য আমাদের অভিযান চালাতে বলা হয়েছে।’
