যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে চরম বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ডেমোক্রেটিক পার্টি আমূল নির্বাচনি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে। নিম্নকক্ষে সাফল্য সত্ত্বেও উচ্চকক্ষে সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ইতিমধ্যে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টও গত নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বুধবারের প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতাসীনদের আনা বিলে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বিলটি পাশ হয়েছে। খবর ডয়চেভেলে ও সিএনএনের
বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ধারাবাহিক গণতন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে ভোটদানের পথে একাধিক বাধার কারণে অনেক মানুষ এতকাল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারেননি। ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা থেকে শুরু করে ভোট দেওয়া পর্যন্ত পদে পদে নানা জটিলতা দেখা যায়। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গসহ সমাজের প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলো এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়। ২০২০ সালেও অনেক মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
ভোটদানের অধিকারে সাম্য আনতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একাধিক উদ্যোগের অঙ্গীকার করেছিলেন। তারই জের ধরে বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এক নির্বাচনি সংস্কার বিল পাশ হয়। নিজস্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা সহজেই সেই আইন অনুমোদন করলেন। উচ্চকক্ষে দুই দলের প্রায় সমান শক্তির কারণে সেই প্রস্তাব অনুমোদিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিরোধী রিপাবলিকান দলের অন্তত ১০ জন সদস্যের সমর্থন ছাড়া সাফল্যের আশা নেই বললেই চলে।
রিপাবলিকান দলের অনেক নেতা এখনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের পরাজয় মেনে নিতে পারেননি। নির্বাচনে কারচুপির মিথ্যা দাবির বিরুদ্ধে তারা প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ফলে বিরোধী দলের কাছে নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ডেমোক্রেটিক দলের উদ্যোগের বিরোধিতা করে তাদের বক্তব্য, এর ফলে রাজ্যগুলোর ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং নির্বাচনি কারচুপি প্রতিরোধ করা সহজে সম্ভব হবে না। প্রস্তাবিত নির্বাচনি সংস্কারের ক্ষেত্রে নির্বাচনে অর্থায়নের বিষয়টি আরো স্বচ্ছ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন সংস্কারের সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখা যেতে পারে।
চলতি বছরে নির্বাচনি সংস্কারের উদ্যোগ অন্য একটি কারণেও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২২ সালের নির্বাচনের ওপর যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন সেন্সাস দপ্তর আদমশুমারির ফল প্রকাশ করার পর রাজ্যের নির্বাচনি এলাকার মানচিত্র নতুন করে স্থির করতে হবে। ফলে কংগ্রেসের আসনগুলোর চরিত্রও বদলে যাবে। এতকাল ৩৩টি রাজ্য সেই প্রক্রিয়ার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এসেছে। নির্বাচনি সংস্কার সফল হলে সেই অধিকার খর্ব হতে পারে। তখন আর সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ পূরণ করতে নির্বাচনি এলাকার সীমানা স্থির করা যাবে না। ৪৩টি রাজ্যে ভোটাধিকার শক্তিশালী করার বদলে উলটো ভোটদানের পথে আরো বাধা সৃষ্টি করতে ২০০-এর বেশি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে সশরীরে ভোটদান ছাড়া বাকি পক্রিয়াগুলোর পথে আরো বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দুই দলই নিজস্ব পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরতে জোরালো প্রচার অভিযান চালাচ্ছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাইডেন প্রশাসন সময় নষ্ট না করে জোরকদমে একাধিক এজেন্ডা কার্যকর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ বিফল হওয়ার পর থেকে বিরোধী রিপাবলিকান দলের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পর্ক আরো শীতল হয়ে পড়েছে। ফলে আমেরিকার গণতান্ত্রিক প্রথা অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ বা আপস-মীমাংসার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
