ফিরে দেখা যেন ভুলে না যাই

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ২০:১৬

 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সহযোগিতা করলেও ভারতের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে তারা ছিল সোচ্চার। ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সর্বাত্মক সহযাগিতা বিশ্বজনমত গড়ে তুলে আমাদের বিজয় অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভারতের নাগরিকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল আবেগঘন সহানুভূতি ও ভালোবাসা। পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করলে প্রায় ১ কোটি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল ভারতে। ভারত সরকার নানারকম সহযোগিতা করে বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচিয়েছিল। ভারত বাংলাদেশের পক্ষ অবলম্বন করেছিল অত্যন্ত বাস্তবধর্মী চিন্তাচেতনা থেকে। তাদের দেশের মানুষ পুরোপুরি বাংলাদেশের পক্ষে থাকায় সুবিধা হয়েছিল সে দেশের সরকারের জন্য। জনগণের সমর্থন না থাকলে ভারত সরকারের পক্ষে এভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব হতো না। ভারতের জনগণ যে আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকে মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছিল তা কোনো তত্ত্বের মোড়কে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অর্থ, অস্ত্র ও নানা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়েছিল ভারত সরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নেমেছিলেন কূটনৈতিক যুদ্ধে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে  তোলার জন্য পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। বিশ্বজনমত বাংলাদেশের পক্ষে এনে স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সত্যিকারের বন্ধুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল ভারত।

বাংলায় প্রবাদ আছে—‘বিপদে বন্ধুর পরিচয়’। বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকারের বিপদের বন্ধু হিসেবে ভারতকে কাছে পেয়েছিল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়। এককথায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান কোনোভাবেই ভুলবার নয়।

হাসান সিকদার