দুই বছরে কাজ হয়েছে সামান্যই
সুশীল সেনগুপ্ত, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূলত করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় এই অবস্থা। প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারি প্রকৌশলী (কার্য), কুলাউড়া মো. জুয়েল হোসাইন জানান, এই প্রকল্পের আওতাধীন বিশেষ বিশেষ কাজের মধ্যে রয়েছে ১৭টি গার্ডার ব্রিজ ও ৪২টি বক্স কালভার্ট নির্মাণ। এসব ব্রিজ কালভার্টের সবগুলো ভাঙা হয়েছে। ছয়টি স্টেশন বিল্ডিংয়ের মধ্যে চারটি স্টেশন বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে, শাহবাজপুর, মুড়াউল, বড়লেখা ও দক্ষিণভাগ। অবশিষ্ট দুইটি কাঁঠালতলী ও জুড়ী স্টেশন বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়নি। সবগুলো স্টেশনের প্ল্যাটফরমের কাজ শুরু করা হয়নি। অ্যাম্বাকমেন্ট কাজের মধ্যে পুরাতন ব্যালাস্ট সরিয়ে, গাছপালা, রেললাইনের দুই পাশের ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে রেল রুট ২৩ ফুট প্রশস্ত করার কাজ চলছে।
এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ভারতীয় রেলের ডিজিএম ভাস্কর বক্সি বলেন, তিনি দেড়মাস ধরে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনঃনির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন। পূর্বে তিনি আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্পের কাজে ছিলেন। এই প্রকল্পের সবকিছু ভালোভাবে বুঝে উঠতে পারেননি। তবে এই প্রকল্পের মেয়াদ আরো ২ বছর অর্থাত্ ২০২০-এর ডিসেম্বর থেকে ২০২২-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই মাটির কাজ শেষ করার চিন্তাভাবনা করে লোকবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৫০-৪০০ শ্রমিক কাজ করছে। কোভিড-১৯-এর কারণে প্রায় সাত মাস এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। ফলে কাজের অগ্রগতি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। নতুবা ইতিমধ্যে কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান হতো। তবে অ্যাম্বাকমেন্টের ওপর দিয়ে কুলাউড়া থেকে জুড়ী স্টেশন পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার ভালোভাবে পায়ে হেঁটে চলাচল করা যাবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিইএন-২-ঢাকা মো. সুলতান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ গত দুই বছরে কম অগ্রগতি হয়েছে। কাজের গতি মন্থর। নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের কিছুটা অবহেলা রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কাজের গতি কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পে কাজের তদারকি কে করছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রেলপথ সিলেট কামরুজ্জামান খান, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (সেতু) মামুনুর রশীদ এবং ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. জাকির হোসেন কাজ দেখভাল করছেন।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এই পুনর্বাসন প্রকল্প কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। ভারত-বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের মধ্যে ৭ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার লুপ লাইনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রেন লাইন পুনর্বাসনের পাশাপাশি ছয়টি স্টেশনের মধ্যে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, বড়লেখা ও শাহবাজপুর বি শ্রেণি এবং কাঁঠালতলি ও মুড়াউল স্টেশন দুইটি ডি শ্রেণিতে পুনঃসংস্কার করা হবে। এই প্রকল্পের কাজের জন্য ২০১৭ সালে ১৫ নভেম্বর রাজধানীর রেল ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ভারতের কালিন্দী রেল নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের (টেক্সমাকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের একটি বিভাগ) সঙ্গে চুক্তি হয়।
