স্পোর্টস রিপোর্টার
নিউজিল্যান্ড সফরে মাঠের বাইরের আতঙ্ক, ভয়ঙ্কর ঘটনাপ্রবাহ যেন পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশ জাতীয় দলের। দুই বছর আগে ক্রাইস্টচার্চেই সন্ত্রাসী হামলার ভয়াবহতা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কয়েক দিন আগে এ শহরে আতশবাজির আওয়াজেও তাই ভড়কে গিয়েছিলেন কোয়ারেন্টাইনে থাকা তামিম ইকবালরা। বৃহস্পতিবার রাতে নিউজিল্যান্ডকে কাঁপিয়ে গেল ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প!
স্থানীয় সময় রাত ২টা ২৭ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হওয়া এ ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সৃষ্টির ব্যাপারে সতর্কতা জারি করা হয় দেশটিতে।
ভূ-কম্পনের সময়টাতে ঘুমিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। আবার কম্পনের ফলে তরুণ পেসার শরীফুল ইসলামের ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। তবে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ দলের ওপর ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েনি। ক্রাইস্টচার্চ শহরে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল সূচি অনুযায়ী গ্রুপে ভাগ হয়ে অনুশীলন করেছেন মুশফিক-মিরাজরা।
সফরে দলের পর্যবেক্ষক ও বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ক্রাইস্টচার্চ থেকে বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ড সময়ের মধ্যরাত ২টা ২৭ মিনিটে উত্তর নিউজিল্যান্ডে যেটা ক্রাইস্টচার্চে থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে, সেখানে একটা ভূমিকম্প হয়েছে। তাও আবার সমুদ্রের গভীরে। সেখান থেকে একটা সুনামি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, সেসব জায়গায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এসব ছিল আসলে উত্তর অঞ্চলে। কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে। তার প্রভাব আমরা যারা ক্রাইস্টচার্চে আছি বা নিউজিল্যান্ডের বাকি শহরগুলোতেও এটার কোনো প্রভাব ছিল না। আলহামদুলিল্লাহ, ক্রাইস্টচার্চে আমরা সবাই ভালো আছি এবং সুস্থ আছি, নিরাপদে আছি।’
লিঙ্কন গ্রিন মাঠে গতকাল অনুশীলন করেছেন ক্রিকেটাররা। জালাল ইউনুস বলেন, ‘আমাদের রুটিন যেভাবে ছিল, আমাদের অনুশীলনের; সেটা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আজকেও (শুক্রবার) ছেলেরা চারটি দল করে প্র্যাকটিস করেছে, জিম করেছে; আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে।’ পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বিসিবি। জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের সরকার এবং ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমাদের সবসময় যোগাযোগ আছে। তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে আমরা কোনো সতকর্তা পাইনি।’
এদিকে ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন মুশফিক। ২০১৯ সালে এ মসজিদেই জঙ্গি হামলায় প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল।
