ইত্তেফাক রিপোর্ট
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজিবি) অপারেশন শাখার প্রধানসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। তারা হলেন, মাইনুল ইসলাম ওরফে মাহিন ওরফে মিঠু ওরফে হাসান, শেখ সোহান সাদ ওরফে আব্দুল্লাহ ও মুরাদ হোসেন কবির । বৃহস্পতিবার বিকালে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, ৫টি মোবাইল ফোনসেট, একটি মাইক্রোফোন, একটি চাপাতি, দুটি ছোরা, ১০টি ডেটোনেটর, বিয়ারিংয়ের ১৭০টি লোহার বল, একটি স্কচটেপ, ৫ লিটার অ্যাসিড, তিনটি আইডি কার্ড, একটি উগ্রবাদী বার্তা সম্বলিত পুস্তক উদ্ধার করা হয়েছে।
সিটিটিসির উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ঐ মামলায় তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাইনুল ইসলাম সাংবাদিকের বেশ ধরে হুজিবির সাংগঠনিক কাজ করে আসছিলেন। কারাগার থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর এবং ২০০০ সালের কোটালিপাড়ায় তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে গাজী খানের নির্দেশে সংগঠনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন মাইনুল।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, শেখ সোহান সুনামগঞ্জের বিবিয়ানা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে সরকারি বাঙলা কলেজে পড়ার পাশাপাশি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালে ঢাকায় একুশে বই মেলায় নাশকতার ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ ছাড়াও তিনি ২০১৭ সালে আরেকটি বিস্ফোরক মামলায় এবং ২০১৯ সালে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার হন। জামিনে বের হয়ে তিনি মাইনুলের নেতৃত্বে হুজি সংগঠনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। মুরাদ হোসেন হুজিবির সক্রিয় সদস্য। তিনি ব্যবসার আড়ালে হুজিবি সংগঠনের দাওয়াতি ও বায়তুল মালের দেখভালের দায়িত্ব পালন করতেন।
