রামগড়-সাব্রুম সীমান্তে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু-১-এর উদ্বোধন হবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে। বংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেতুর উদ্বোধন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন শুক্রবার সেতুটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান।
ভারত সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত জানুয়ারিতে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুটি উদ্বোধনের পর বহু প্রতীক্ষিত রামগড় সাব্রুম স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু হবে বলে শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশের ১৫তম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম এ স্থলবন্দর চালু হলে দুই দেশের ব্যবসা বাণিজ্য, পর্যটনসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সেভেন সিস্টারখ্যাত তাদের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সাতটি অনুন্নত রাজ্যের ‘গেটওয়ে’ হিসেবে দেখছে মৈত্রী সেতুটিকে।
এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, তিস্তা ইস্যুতে ভারতের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে বাংলাদেশ এ সমস্যা সমাধানে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তিস্তা ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। এ সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তিস্তা সমস্যার কোনো সমাধান তারা করতে পারবেন না বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, তবে তিস্তার অগ্রগতি না হলে অন্যান্য বিষয় থেমে থাকবে তা নয়। আগামী ১৬ মার্চ দুই দেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠকেও তিস্তাসহ ছয়টি অভিন্ন নদীর সমস্যা এবং আরো কয়েকটি ইস্যু নিয়ে সার্বিক আলোচনা হবে। সেতু পরিদর্শনকালে পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
