কুমিল্লার প্রতিটি উপজেলায় ড্রেজারে মাটি উত্তোলন চলছে অবাধে। এতে করে জমির পাড় ভেঙে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। সরেজমিনে ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, চান্দিনা, দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে—কোনো কোনো জায়গায় প্রভাবশালীরা নিজেদের জমি কোথাওবা অপেক্ষাকৃত দরিদ্র কৃষককে নগদ আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তিবদ্ধ করে ড্রেজারে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব মাটি ডাম্পট্রাক, ট্রাক বা ট্রাক্টরে করে হাউজিং বা বিভিন্ন প্রকল্পসহ নিচু জমি ভরাটের কাজে, কখনো আবার ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। কখনো ফসলি জমি, বাসা-বাড়ি, সড়কের পাশ দিয়ে প্লাস্টিকের পাইপ বসিয়ে এক-দুই কিলোমিটার দূরের নিচু জমি ভরাটের কাজেও লাগানো হচ্ছে এই মাটি। এতে আশপাশের জমির তলদেশ মাটি শূন্য হয়ে জমি ভেঙে পড়াসহ জমির আশেপাশে মাটি ভর্তি গাড়ি চলাচলে জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া জমিতে প্লাস্টিকের পাইপ বসানোর কারণেও ফসল নষ্ট হচ্ছে। ড্রেজারে মাটি উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট গর্তে অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। ফসলি জমি ভেঙে যাওয়ায় চাষাবাদেও দুর্ভোগ বাড়ছে কৃষকদের। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশও। জেলা, উপজেলা প্রশাসন থেকে ড্রেজারে মাটি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞার পরও থেমে নেই এই কর্ম। যত্রতত্র ড্রেজার বসিয়ে অবাধে মাটি তুলে নিচ্ছে মাটিখেকোরা। অসহায় কৃষকরা প্রভাবশালীদের প্রতিরোধ করতে না পারায় অবৈধ প্রক্রিয়ায় মাটি উত্তোলন দিন দিন বেড়েই চলেছে। জমিতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মামশাদ কবীর
কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০
