হিজড়াদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ, আহত ১০

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২১, ২২:১৪

সাভারে চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সাভারে বাসযাত্রী এক শিক্ষার্থীর কাছে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করায় হিজড়া সদস্যদের সঙ্গে বাসযাত্রী ও হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। গতকাল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সুমি নামে আহত এক হিজড়াকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল দুপুরে ঢাকা থেকে সাভারগামী একটি বাসে উঠে দুই হিজড়া সদস্য যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করেন। এ সময় আমির হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীর কাছে তারা ১০ টাকা দাবি করেন। ঐ শিক্ষার্থী ৫ টাকা দিলে হিজড়া সদস্যরা তা না নিয়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালি দেন। এ ঘটনায় অন্য যাত্রীরা একত্রিত হয়ে দুই হিজড়াকে মারধর করে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ১০/১২ জন হিজড়া একত্রিত হয়ে ফুুটপাতের একটি হকারের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় অন্য হকাররা বাধা দিলে তাদের ওপরও তারা চড়াও হয় এবং এক হকারকে বেধড়ক পিটিয়ে জামাকাপড় ছিড়ে ফেলে। এ ঘটনায় উচ্ছৃঙ্খল হিজড়াদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে হকাররা মিলে হিজড়াদের ওপর ইট-পাটকেল মারলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও মারপিটের ঘটনা ঘটে।

সাভার উপজেলা হকার্স লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির মোল্লা বলেন, দুপুরে বাস যাত্রীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দলবদ্ধভাবে প্রায় ১৫/২০ জন হিজড়া হকারদের ওপর চড়াও হয় এবং ব্যবসায়ীর দোকান ভাঙচুর ও হকারদের মারধর করে। এ সময় চার হকারের কাছ থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। তিনি বলেন, প্রতিদিন সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের উভয় পাশে থাকা প্রায় ২ হাজার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অন্তত ৩০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন হিজড়ারা। দিনের পর দিন এভাবে তাদের অত্যাচার চললেও কোনো মহল থেকেই এর প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সাভার বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে চলাচলরত প্রতিটি গণপরিবহনে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে হিজড়ারা। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে হেনস্তা করা হয়। অনেকটা আত্মমানসম্মানের ভয়েই হিজড়াদের চাঁদা দিতে বাধ্য হন তারা। সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হিজড়াদের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরে পুলিশ ত্বড়িত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।