ঐক্যফ্রন্ট কার্যকর, কিছু ব্যক্তি বেরিয়ে গেলেও গণফোরাম ঐক্যবদ্ধ :ড. কামাল

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২১, ২২:৪৬

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে এর আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বললেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট কার্যকর আছে’। আর নিজ দল গণফোরামে বিভক্তির বিষয়ে বলেছেন, ‘গণফোরাম দুইটা বলার কোনো কারণ নেই। কিছু ব্যক্তি বেরিয়ে গেলেও গণফোরাম ঐক্যবদ্ধ এবং সঠিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে’। করোনা মহামারির মধ্যে প্রায় একবছর পর বাসার বাইরে এসে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম নিয়ে একথা বলেন তিনি।

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরো বৃহত্তর ঐক্য গড়ার কথা জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল। তিনি বলেন, সবাই জানেন আজ দেশের কী অবস্থা। সব সমস্যা সংকটে রূপ নিয়েছে। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের ঐক্যের প্রয়োজন। উত্তরণের একমাত্র পথ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আমাদের লেগে থাকতে হবে, যাতে করে সরকার বাধ্য হয় এগুলো থেকে সরে দাঁড়াতে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে সুশাসন পাওয়া অসম্ভব। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনগণকে নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

ড. কামাল বলেন, সরকার জনগণকে ভয় দেখাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করছে। এসম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশোধন নয়, আমরা আইনটি বাদ দেওয়ার পক্ষে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে বাক্স্বাধীনতা, চিন্তা করার স্বাধীনতাকে যেভাবে আঘাত দেওয়া হচ্ছে সেখান থেকে আমাদের সমাজকে পুরোপুরি মুক্ত করা দরকার। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ যারা নিজেদের নির্বাচিত দাবি করে দেশ শাসন করছে তাদের প্রতি জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন নেই। জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার জনগণকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন              করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার অপকৌশল হিসেবে বিভিন্ন কালাকানুন জারি করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তারই অংশ।

গণফোরাম সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দেশে আজ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিবর্তে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকেছে। সামনে অগ্রসর হওয়া ছাড়া জনগণের আর কোনো বিকল্প নেই। এই রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত অশুভ সিন্ডিকেটকে দায়ী করে তিনি জানান, গণফোরাম জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে রোজার মাসে সারাদেশে গণসংযোগ শুরু করবে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগের পর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে কে? এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সভাপতি ড. কামাল বলেন, এখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিকউল্লাহ।

কামাল হোসেন যখন প্রেস ক্লাবের ভেতরে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন তখন প্রেস ক্লাবের বাইরে যুব গণফোরামের ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের ব্যানারে দলের আরেকাংশ লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যু এবং কার্টুনিস্ট কিশোরের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে কামাল হোসেন বলেন, গণফোরাম থেকে কিছু লোক বেরিয়েছে, বেরিয়ে গিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। তারা বেরুতেই পারেন। বাধ্য করে কাউকে তো রাখা যায় না। ওদেরকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন—আপনারা কেন বেরিয়ে গেছেন? আমরা যারা গণফোরাম করে যাচ্ছি, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। সংবাদ সম্মেলনে ড. কামালের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। সংবাদ সম্মেলনে আ ও ম শফিকউল্লাহ, মোশতাক আহমেদ, জানে আলম, সুরাইয়া বেগম ও সেলিম আকবার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।