আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বৈশাখী টেলিভিশনে দেখা যাবে দুই জন ট্রান্সজেন্ডার নারীকে। এক জন সংবাদ পাঠ করবেন, আর অন্য জনকে দেখা যাবে নাটকে। দেশে প্রথম বারের মতো ট্রান্সজেন্ডার দুই নারীকে সম্পৃক্ত করল কোনো টেলিভিশন।
‘সমাজ পরিবার সবকিছু উলটো পথে হাঁটছিল। সবকিছু ব্রেক করেই আজকের জায়গা তৈরি করতে হয়েছে।’ ইত্তেফাককে কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশে প্রথম টেলিভিশনে সংবাদ পাঠিকার সুযোগ পাওয়া ট্রান্সজেন্ডার নারী তাসনুভা আনান শিশির। তাসনুভার সঙ্গে একই দিন নাটকে দেখা যাবে আরেক ট্রান্সজেন্ডার নারী নুসরাত মৌকে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে, ধারাবাহিক নাটক ‘চাপাবাজ’ এর একটি পর্বে। এটাও প্রচারিত হবে ৮ মার্চ রাত ৮টা ৪০ মিনিটে। ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে নিয়েই ভাবনা নুসরাতের। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও তো হিজড়াদের জন্ম হবে। তারা কীভাবে বড় হবে? আমি চাই, সরকার সমাজ এমন কিছু একটা করুক যাতে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম পরিবারের সঙ্গে সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করে বড় হতে পারে। আমাদের কমিউনিটিতে যেন তাদের আসতে না হয়।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৈশাখী টেলিভিশন ঘোষণা দেয়, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দুই ট্রান্সজেন্ডার নারীকে দেখা যাবে তাদের টেলিভিশনে। এক জনকে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে এবং অন্য জনকে নাটকে।
বৈশাখী টেলিভিশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন বলেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বৈশাখী টেলিভিশন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই বছর, স্বাধীনতার মাস মার্চে নারী দিবস উদ্যাপনের আগে সংবাদ বিভাগ ও নাটকে দুই জন ট্রান্সজেন্ডার নারীকে যুক্ত করেছে। দেশের মানুষ এই প্রথম একজন ট্রান্সজেন্ডারকে পেশাদার সংবাদ বুলেটিনে পাঠ করতে দেখবেন। এক প্রশ্নের জবাবে টিপু আলম বলেন, স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যখন ট্রান্সজেন্ডার নারীদের ঘর দিচ্ছেন, তখন আমরাও এটাকে সামনে আনার কথা ভাবি। সেই প্রেক্ষাপটে দুই জনকে যুক্ত করেছি। আরো দুই জন শিগিগরই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন, যা প্রক্রিয়াধীন আছে।
