জামিন জালিয়াত চক্রকে নিবৃত্ত করতেই হবে

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২১, ২২:৫৪

একের পর এক জামিন জালিয়াতির ঘটনা ভাবিয়ে তুলছে বিচার প্রশাসনকে। সেজন্য এই জালিয়াতি চক্রকে রুখতে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, দেশের বিচার বিভাগের কর্তৃত্ব  ও সামগ্রিক পবিত্রতা রক্ষায় এই চক্রকে অবশ্যই নিবৃত্ত করতে হবে। বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ জামিন জালিয়াতির ঘটনায় এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় মোটর মালিক গ্রুপের অফিস দখল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়। এর একটি মামলায় হাইকোর্টের আগাম জামিনের জাল আদেশ সৃজন করে রাজশাহী বিভাগীয় মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ ৩০ আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান। দেন মহড়া। এই জাল আদেশ সৃজনের বিষয়টি নজরে আসলে হাইকোর্ট গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ দেন। গত সপ্তাহে লিখিত আদেশের অনুলিপি প্রকাশ পায়। আদেশে হাইকোর্ট বলেছে, এটা কাচের মতো স্পষ্ট যে, বগুড়ার মামলায় সৃজনকৃত জাল জামিন আদেশটি ছিল মিথ্যা, প্রতারণামূলক ও জাল-জালিয়াতিতে ভরা। হাইকোর্ট জামিন আদেশ না দেওয়ার পরেও  উচ্চ আদালতের দুই জন বিচারপতির নাম ব্যবহার করে এ ধরনের জাল আদেশ সৃজন খুবই গুরুতর অপরাধ ও সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের শামিল। একই সঙ্গে তা গুরুতর আদালত অবমাননাকরও বটে।

এই পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জাল আদেশ সৃজনের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, সিআইডিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। প্রসঙ্গত, বগুড়ার জাল আদেশ সৃজনের ঘটনায় আমিনুলসহ ৩০ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

বগুড়ার ঘটনায় ইতিপূর্বে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় জামিন জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। সেসব ঘটনায় আসামি, মামলার তদবিরকারক ও আইনজীবীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাও হয়েছে। অনেক সময় আদালতের কিছু অসাধু কর্মচারীও এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামিন জালিয়াতির ঘটনায় মামলা হলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির আছে কি না কখনো দেখা যায় না। যার কারণে দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছে এই চক্র। এই চক্রকে ধ্বংসে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।