বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার একটি দেশ। বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এ দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বিশ্বের দরবারে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়ন শব্দটির সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন করে নাম লিখিয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোকে উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত হিসেবে বিভাজন করা হয়ে থাকে। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ স্বল্পোন্নত দেশের এই তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকের ভিত্তিতে একটি দেশ উন্নয়নশীল দেশ হতে পারবে কি না—সেই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে ৩২ পয়েন্ট বা এর নিচে, মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ বা এর বেশি পয়েন্ট এবং মাথাপিছু আয়ের সূচকে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার থাকলেই সে দেশটি উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করে। ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকেই মান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে সিডিপি। সত্যিই বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য অর্জন!
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশই তরুণসমাজ। বর্তমান লোকসংখ্যার হিসাবে দেশে সাড়ে ৪ কোটির বেশি তরুণ রয়েছে। একটি দেশের প্রধান চালিকাশক্তি ও ভবিষ্যত্ নির্মাতা হিসেবে তরুণরাই অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ব্যতীত একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নতি আশা করা যায় না। তাই একটি দেশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সাধনে তরুণরাই অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। এজন্য তরুণদের মেধা ও মননের সর্বোচ্চ প্রয়োগের পাশাপাশি দেশের জন্য কাজ করার তাড়না থাকতে হবে। তরুণদের অদক্ষ ও সস্তা শ্রমের বাজার থেকে বেরিয়ে নিজেদের দক্ষ, জ্ঞানবিজ্ঞানসমৃদ্ধ ও শিল্প-সাহিত্যে উন্নত স্মার্ট একটি জাতিতে পরিণত হতে হবে। এজন্য শুধু গ্রন্থগতবিদ্যা বা প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে নিজেদের আটকে না রেখে বাক্সের বাইরে চিন্তা করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী আসন্ন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদামাফিক নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন আইডিয়ার ওপর ভর করেই এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদেরকে সব ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপখাইয়ে চলার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীর এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকতে হলে তরুণদেরকে পুরোনো ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন নতুন আইডিয়া কাজে লাগিয়ে বিশ্বে নিজেদের পরিচিত করে তুলতে হবে। পরিবর্তিত এই পৃথিবীতে দক্ষতা দিয়েই টিকে থাকতে হবে।
আর সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অর্জন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে এসে দেশ গড়ার দায়িত্বে আত্মনিয়োগ করতে হবে। কারণ, আজকের তরুণই আগামী দিনের কান্ডারি, আগামীর সোনালি স্বপ্নের বাস্তবায়নের রূপকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যে বলেছেন যে, আগামী ২০ বছরে যাতে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে তার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা ও কর্মসূচি তৈরি করে রাখা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকেই সেগুলো বাস্তবায়নের রূপকার হিসেবে কাজ করতে হবে। কারণ, পৃথিবীতে যত উন্নত রাষ্ট্র আমরা দেখি তারুণদের হাত ধরেই আজ সাফল্যের এই চূড়ায় তারা আরোহণ করেছে। তাই তরুণদেরকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার সোনার মানুষ হয়ে জাতির নেতৃত্বে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তারুণ্যের হাত ধরেই এগিয়ে যাক আমাদের প্রাণের এই বাংলাদেশ। তারুণ্যের জয় হোক!
n লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
