ভিসি কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে প্রকাশ হবে ৭৫০ পৃষ্ঠার দুর্নীতির শ্বেতপত্র

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২১, ২৩:০২

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেছেন, আগামী ১০ মার্চ বেরোবিতে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর করা দুর্নীতির ৭৫০ পাতার শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। ২০১৯ সাল থেকে আমরা ১৫৩টি অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের কাছে সব তথ্যপ্রমাণ আছে। আমাদের দেওয়া অভিযোগের মধ্যে ৪৫টির তদন্ত করতে ১৪ মার্চ ইউজিসির একটি টিম আসবে বলে আমাদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু থেকেই কোণঠাসা উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। হাতে গোনা কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা তার সঙ্গে ছিলেন। উপাচার্য অনেক কাজই তাদের পরামর্শ নিয়ে করেছেন।  আবার এসব শিক্ষক কর্মকর্তারা উপাচার্যের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধাও নিয়েছেন। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছেন, আবার কেউ নিজ আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দিয়েছেন।

উপাচার্য  তার মেয়াদে যে সব শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন তারা উপাচার্যকে সাংগঠনিক সহায়তার জন্য নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ নামে একটি সংগঠন করেছে। এই সংগঠনের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক কর্মকর্তা ও ছাত্র সংগঠন ভিসিবিরোধী এবং তার কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচক।

নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে অবস্থান না করায় ভিসির বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছেন শিক্ষক কর্মচারীরা। ফলে ভিসি নানামুখী চাপে ছিলেন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের তদন্তে তাকে দায়ী করে রিপোর্ট দেওয়ায় নতুন করে চাপে পড়েছেন উপাচার্য। এরই মধ্যে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করে।

ভিসির পক্ষে অবস্থান নেওয়া এক শিক্ষক বলেন, উপাচার্যের সবচেয়ে বড় দোষ তিনি ক্যাম্পাসে ঠিকমতো আসেন না। তার আচরণ ভিসিসুলভও নয়। এর বাইরে তিনি কোনো আর্থিক অনিয়মে জড়িত নন। আর শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ভিসি অনুসারীরাও বিব্রত। তারা মনে করেন, ভিসির এ কাজটি ঠিক হয়নি।

সম্প্রতি ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে ইউজিসির প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করেন কলিমউল্লাহ। এছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতেও সবকিছুর জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করছেন তিনি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির একাংশ, নীল দল, প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও কর্মকর্তাদের একাংশ নিয়ে গঠিত অধিকার সুরক্ষা পরিষদের নেতারা উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেছেন।

অন্যদিকে শুধু রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রংপুর জুড়েই উপাচার্যের সমালোচনা চলছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। ডা. দীপু মনি শুধু মন্ত্রীই নন, তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি ঢাকার জন্য তিনি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে অনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থি। এই সম্মেলনের ব্যাপারে তদন্ত দাবি করছি।

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফিরোজুল ইসলাম বলেন, ভিসি অবশ্যই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এভাবে বলতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অবশ্যই ভিসি দায়ী। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এভাবে কথা বলতে পারেন না তিনি।

নীল দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদ মণ্ডল বলেন, উপাচার্য মন্ত্রীকে নিয়ে যেভাবে কথা বলেছেন তা শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি উন্মাদের মতো কথা বলেছেন। উপাচার্যের জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাকে সাহায্য করছে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি, যারা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং নিজেদের কুকর্মগুলো আড়াল করতে চায়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মতিউর রহমান বলেন, উপাচার্য সংবাদ সম্মেলন করে শুধু মন্ত্রীকে ছোট করেননি, তিনি প্রধানমন্ত্রীকেও ছোট করার চেষ্টা করেছেন। ভিসি বারবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশনায় ক্যাম্পাসে তিনি অনুপস্থিত থেকেছেন, ঢাকায় মিটিং করেছেন। জনসমক্ষে এসব বলে প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের সভাপতি নিতাই কুমার বলেন, ভিসি দুর্নীতি করতে করতে দুর্নীতির পাল্লা ভারী করে ফেলেছেন। আমরা দুই বছর যাবত এসবের প্রতিবাদ করে আসছি। তিনি দুর্নীতির দায়ে এখন বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।