চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হত্যা মামলার আসামি উধাওয়ের ঘটনায় জেলার ও ডেপুটি জেলারকে প্রত্যাহার, দুই কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অপর এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক। এছাড়া ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কারাবন্দিদের ওপর বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাজতি উধাও হওয়ার ঘটনায় কারা মহাপরিদর্শক চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে কারা অধিদপ্তরে এবং ডেপুটি জেলার আবু সাদাতকে চট্টগ্রাম জেলায় সংযুক্ত করেছেন। এ ছাড়া দুই কারারক্ষী মো.ইউনূস ও নাজিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং কামাল হায়দার নামে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে খুলনা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক ছগির মিয়াকে প্রধান এবং বি-বাড়িয়া জেলা কারাগারের সুপার ইকবাল হোসেন ও বান্দরবান জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার ফোরকান ওয়াহিদকে সদস্য করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক তিন সদস্যবিশিষ্ট অপর একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনি আক্তারকে আহ্বায়ক এবং এডিসি (ট্রাফিক উত্তর) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার মাজহারুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ গত শনিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রুবেল কারাগারের কর্ণফুলী ভবনের পঞ্চম তলায় ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ছিলেন। ভোর সোয়া ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে রুবেল ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে যান। নিখোঁজ হাজতি রুবেল নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মীরেরকান্দি গ্রামের শুক্কুর আলী ভান্ডারির পুত্র।
পুলিশ জানায়, সদরঘাট থানার এসআরবি রেলগেট এলাকায় ৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আবুল কালাম আবু নামে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করেন রুবেল। পরদিন সকালে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান কালাম। এ ঘটনায় কালামের মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে সদরঘাট থানায় মামলা করেন। সহপাঠীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রুবেল কারাগারে ছিলেন।
