পড়া না পারায় ছাত্রকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগে ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো. ইসমাঈল ওরফে নোয়াখালী হুজুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের কুঠিরহাট দারুল উলুম মাদ্রাসায় তিনি শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার বিকালে পড়া না পারার অজুহাতে মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহকে বেত দিয়ে পিটিয়ে জখম করে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে তিন ঘণ্টা আটকে রাখেন শিক্ষক মো. ইসমাঈল। ঐ দিন সন্ধ্যায় অপর এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ঐ ছাত্রের অভিভাবকরা খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমর ফারুকসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে ঐ শিক্ষক পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ঐ শিক্ষার্থীর মা ফতেমা আক্তার শারমিন বাদী হয়ে শিশু আইনে শনিবার দুপুরে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক জানান, এর আগেও ইসমাঈল হুজুরের আঘাত সহ্য করতে না পেরে অনেক ছাত্র মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়। শ্রেণিপাঠে ভীতি তৈরি হওয়ায় অনেককে পরে আর পড়ালেখায় মনোযোগী করা যায়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম এ হোসেন জানান, ইসমাঈল হুজুরের বেত্রাঘাতের বিষয়ে আগেও বেশ কয়েকবার সালিশ হয়েছে। মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা জুবায়ের হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। শিক্ষকের অপরাধ প্রতিষ্ঠান বহন করবে না। অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
