ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ২১:৪৪

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত নারীর পদচারণা রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নারী শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পঞ্চগড়ে পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে চা বাগান, কারখানা, স্টোনক্রাশার, রাজমিস্ত্রি, মাটি কাটা, গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, মিল-চাতাল, কৃষিকাজসহ ছোট ছোট কারখানায় নারী শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। কিন্তু বেতন কম ও মজুরি-বৈষম্যের কারণে এখানকার নারীরা সাফল্যের মুখ দেখতে পাচ্ছে না।

জেলার সদর উপজেলার পঞ্চগড় ইউনিয়নের ডাবরভাঙ্গা গ্রামের কৃষি শ্রমিক শেফালী বেগম জানান, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করি। আমরা হাজিরা পাই সবোর্চ্চ আড়াইশ টাকা। একই কাজ করে পুরুষ শ্রমিকরা হাজিরা পান ৪০০-৫০০ টাকা। সদর উপজেলার মালাদাম এলাকার অলকা রানী জানান, করোনায় কাজ বন্ধ থাকায় এক বেলা খেয়েছি তো দুই বেলাই খেতে পারিনি। মেম্বার চেয়ারম্যান আমাদের কিছুই দেয়নি। আমরা কারো কাছে কোনো কিছু পাইওনি। তেঁতুলিয়ার দেবনগর এলাকার চা শ্রমিক রাহেনা বেগম জানান, সারা দিন কাজ করে আমরা ১০০-২৫০ টাকা পাই। পুরুষরা পায় ৩০০-৪০০ টাকা। মাটি কাটা শ্রমিক নুরবানু জানান, আমাদের প্রত্যেক দিন কাজ করতে হয়। কাজ না করলে আমরা খাবো কী? নারী দিবস কি আমরা জানি না। কেউ আমাদের কিছু জানায়নি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিন জানান, পঞ্চগড়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কর্মরত নারীদের কোন সংগঠন নেই, নেই ট্রেড ইউনিয়নও। নারী শ্রমিকদের মজুরি বণ্টনে নেই কোনো নীতিমালা, বিধায় মজুরি-বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নারীরা। পঞ্চগড় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান জানান, নারীর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নারীদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি প্রাপ্তির বিষয়টি সময়ের ব্যবধানে এসব আর থাকবে না। তার পরও কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠান নারী শ্রমিকদের মজুরি কম দিলে তারা যদি আমাদের অভিযোগ করেন তবে আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হলেও ফুলবাড়ী উপজেলার নারী শ্রমিকদের জীবন থেমে নেই। সোমবার সকালে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় দল বেঁধে কাজ করছেন নারীরা। নারী শ্রমিক লাভলী (৪০) ও মর্জিনা (৩৫) জানান, আমরা সকাল ৯টা বাজলেই পুরুষদের সঙ্গে কাজ করতে যাই। কাজ থেকে ফিরে আসি একই সময়ে। কিন্তু পুরুষেরা দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা পেলেও আমরা পাই ২০০ টাকা। সমান টাকা চাইলে কাজ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই গ্রামের নারী শ্রমিক বিশো বালা বেওয়া (৫৫) জানান, ধান চাষ ও কাটার সময় পুরুষেরা বিশ্রামের বিরতি নিলেও নারীরা তেমন বিশ্রাম নেয় না। কিন্তু পুরুষ শ্রমিকরা ৩০০-৩৫০ টাকা মজুরি পেলে আমরা পাই ১৫০-২০০ টাকা।

এ বিষয়ে উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি শামিমা আক্তার পারুল জানান, মজুরি-বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা খুবই জরুরি। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সোহেলী আক্তার জানান, নারীরা পুরুষদের সঙ্গে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও সম্মান ও মজুরি পাচ্ছেন কম। এটা খুবই দুঃখজনক।