পলিথিন ব্যাগ

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ২১:৫২

পরিবেশদূষণের দায়ে কল-কারখানাকে জরিমানা কিংবা নদ-নদী ও জলাশয় দূষণ বা দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো হলেও পলিথিনের ব্যবহার রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ তেমন নেই বললেই চলে। এ কারণে সর্বত্র নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।  যদিও এ অপরাধ বন্ধে সচেতনতাই বেশি দরকার, আইনের প্রয়োগও বাড়াতে হবে। না হলে এর উত্পাদন ও ব্যবহার বন্ধ হবে না। এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অবাধে নিষিদ্ধ পলিথিন উত্পাদন ও বাজারজাত করে আসছে। বর্তমানে পলিথিনের কাঁচামাল দিয়ে এক ধরনের টিস্যু পলিথিন উত্পাদন করা হচ্ছে। উত্পাদনকারীরা বলছে এটা ‘পরিবেশবান্ধব’। কিন্তু বুয়েটের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, পলিথিনের মতোই টিস্যু পলিথিন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অথচ পলিথিনের বিকল্প হিসাবে নতুন উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব পাটের সোনালি ব্যাগ সহজেই ব্যবহার করা যায়। 

প্রায় ২৫ বছর আগে করা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ২০০২ সালে সংশোধনী এনে পলিথিনের উত্পাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়। সরকার এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬(ক) ধারাটি সংযোজন করে। আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ পলিথিন সামগ্রী উত্পাদন, আমদানি বা বাজারজাত করে তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা, এমনকি উভয় দণ্ডও হতে পারে। শুধু প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেই পলিথিনের ব্যবহার রোধ করা সম্ভব। এজন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরকে সতর্ক হতে হবে এবং পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধকরণ আইন কঠোরভাবে  প্রয়োগ করতে হবে।

মো. জিল্লুুর রহমান

সতিশ সরকার রোড,

গেণ্ডারিয়া, ঢাকা