নদী খননের নামে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ২১:৫২

সিংগাইরে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, অসহায় কৃষক

মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদী খননের নামে প্রায় তিন মাস ধরে বালু লুটপাটের মহোত্সব চলছে। বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে রাজনৈতিক দলের সিন্ডিকেট। নেতাদের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে অসহায় হয়ে পড়ছে নদী পাড়ের মানুষ। অপরিকল্পিতভাবে নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে নদীগর্ভে যাচ্ছে ফসলি জমি। নদী পাড়ের মানুষ আশঙ্কা করছে বর্ষা মৌসুমে কিংবা অধিক বৃষ্টি হলেই তাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাবে। নদী খননের নাম করে নদীর পাড় থেকে কৃষকের জমি কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে উপজেলা কৃষক সমিতি শাখার ব্যানারে জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধনও হয়েছে। এমনকি কৃষকদের লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড, মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর। তার পরও বন্ধ হচ্ছে না মাটি বিক্রি। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পরিবেশগত সংকটাপন্ন ঘোষিত এলাকায় বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তার তোয়াক্কা করছে না বালু ব্যবসায়ীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর গতিপথ ঠিক রাখতে তলদেশ খনন না করে এবং নদীর পাড়ে রাস্তা না করে খনন করা হচ্ছে নদীর পাড়। বিক্রি করা হচ্ছে নদী পাড়ের বালু। আর এ কাজ হচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছে অনুযায়ী ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ উপায়ে বালু বিক্রির জন্য এলাকাভিত্তিক গড়ে ওঠেছে সিন্ডিকেট। ট্রলিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিভিন্ন স্থানে স্তূপকৃত বালু দিনে-রাতে পাচার হচ্ছে। প্রশাসনের ঢিলেমিতে পাচারকারীরা প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উপজেলার বায়রা, ইসলামনগর, কৃষ্ণপুর, নয়াবাড়ি, বিনোদপুরও কাশিমনগরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক জানান, ‘নদী খননের কথা শুনে আমরা খুশি হয়েছিলাম। এখন দেখি নদী খননের জন্য ঠিকাদাররা নদী যথাযথ পদক্ষেপ না নিয়ে তাদের রেকর্ডিয় জমি কেটে মাটি বিক্রি করছে। এ কাজ তারা করছে এক্সাভেটর ও ড্রেজার ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। কৃষক সমিতির লোকজন জানান, এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের অবহিত করেও প্রতিকার মেলেনি।

বিনোদপুরের জালাল উদ্দিন, নুর উদ্দিন ও সোহরাব হোসেন বলেন, নদী খননের নামে তাদের জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে অথচ বাধা মানছে না ঠিকাদারের লোকজন। তালেবপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি লিয়াকত আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘দল থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ দলের দোহাই দিয়ে এখনকার ছেলেরা যা করছে তা মেনে নেওয়া যায় না।’ নয়াবাড়ির কৃষক আব্দুস সামাদ ও আব্দুর রহিম বলেন, তাদের জমিতে নদী থেকে উঠানো বালু স্তূপ করে রাখায় ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া লাল নিশানের খুঁটি সরিয়ে তাদের সীমানায় রেখে দিয়েছে। তরফ আলী ও আরশেদ আলী জানান, তাদের জমির মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। ইসলামগরের বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম নামে এক বিধবা নারী জানান, নদীপাড়ে তার নিজস্ব জমির পাশে নদীতে ড্রেজার বসানোর কারণে তার বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। এভাবেই নদী পাড়ের ৪০ থেকে ৫০টি বাড়িঘর এখন হুমকির মুখে পড়েছে বলে এলাকার সাইফুল ইসলামসহ আরো অনেকে জানান। তারা বলেন, বর্ষা মৌসুম কিংবা বড় ধরনের বৃষ্টি হলেই তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।