প্রতি বছর সিলেটের প্রধান বোরো ফসল ঘরে তুলতে বিভিন্ন স্থানে ‘হাওর রক্ষা বাঁধ’ (ডুবন্ত বাঁধ) নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চলতি মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের ২ লাখ ৩৮ হাজার হেক্টর এলাকাকে এবার বন্যামুক্ত রাখতে ১৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। এতে ৬৬৬ দশমিক ৫ কি.মি. ডুবন্ত বাধ মেরামত ও পুনর্নির্মাণ হবে।
সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বোরো উত্পন্ন হয় সুনামগঞ্জ জেলায়। এবার এ জেলায় ৬১২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এতে ছোট-বড় ১৫৪ হাওরের বোরো ফসল রক্ষার কথা। কিন্তু শুরু থেকেই কাজে ধীর গতির অভিযোগ আনেন, ‘হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় পিআইসি গঠনেও বিলম্ব ও অনিয়ম হয়েছে। অনেক স্থানে কাজের গতি ছিল কম। চলতি বোরো মৌসুমেও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ‘হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ নিয়ে কৃষকরা উত্কণ্ঠায়।
১৮০টি বাঁধের কাজ বাকি, ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে
নীতিমালা অনুযায়ী হাওর রক্ষা বাঁধের কাজের শেষ দিন ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে নির্ধারিত সময় কাজ শেষ হয়নি। এদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি সুনামগঞ্জের হাওররক্ষা বাঁধের কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্টদের অনুরোধে ঐ দিন ৭ মার্চ পর্যন্ত বাঁধের কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন মন্ত্রী। তার পরও কাজ শেষ না হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড আবারো ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে চিঠি পাঠিয়েছে। সূত্র জানায়, ৮১১টি পিআইসির মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৩১টি পিআইসির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১৮০টি বাঁধের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে জানান, তিনি বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করতে মাঠ পর্যায়ে জোর তাগিদও দেওয়া হয়েছে। শহীদুল ইসলাম জানান, বোরো প্রধান সুনামগঞ্জ জেলার বাঁধ নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, আরো ২০ কোটি টাকা আসছে। এ পর্যন্ত সিলেট জেলায় বাঁধের কাজ ৯০ শতাংশ ও সুনামগঞ্জ জেলায় ৮২ শতাংশ কাজ হয়েছে। সুনামগঞ্জের বাকি কাজ আট দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন।
চলতি মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঝড় বৃষ্টি হওয়ার ও পাহাড়ি ঢল নামার আশঙ্কাকে আবহাওয়া বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না। তাই তারা হাওর পাড়ের বসিন্দাদের সতর্ক থাকতেও বলেছেন। এবার সুনামগঞ্জে হাওর রক্ষা প্রকল্পের জন্য চাহিদাপত্র দেওয়া হয় ১৩৩ কোটি টাকার। সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার হাওরে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব ও পাউবো সুনামগঞ্জের (পওর বিভাগ-১) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান জানান, পিআইসি গঠনে বিলম্ব হওয়ায় বাঁধের কাজ সামান্য পিছিয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাজ ভালো হচ্ছে। পাউবোর সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা বাঁধ নির্মাণ কাজের তদারকি করছেন।
