লোকসান ঠেকাতে বিপিসি নিজেই এলপিজি বিক্রি করবে

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ২২:৪৫

বিপিসির এলপিজি গ্যাস উত্পাদন কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির লোকসান বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। লোকসান ঠেকাতে এলপিজি উত্পাদন, বোতলজাত ও বাজারজাত নিজেরাই করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিও এমন প্রস্তাব দিয়েছে।

বর্তমানে বিপিসির তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান বাজার প্রক্রিয়ায় তেল বিপণন কোম্পানিগুলো প্রতি সিলিন্ডার থেকে ৭৫ টাকা লাভ করে থাকে। ফলে এলপিজি নিজেরাই বাজারজাত করলে লভ্যাংশ তারাই পাবে।

সরকারিভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে এলপিজি উত্পাদন করা হয়। পরে চট্টগ্রামের এলপিজি লিমিটেডের নিজস্ব বোতলজাত প্ল্যান্টে ভর্তি করে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে সরবরাহ দেওয়া হয়। বিপিসির অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা হয়।বিপিসির এলপি গ্যাস ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিটি সিলিন্ডার ৬০০ টাকা দরে বিক্রির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এলপিজি লিমিটেড জানায়, বর্তমানে সিলেটের প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় তাদের উত্পাদন ক্ষমতা কমে গেছে। দৈনিক ৪ হাজার সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। উত্পাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর যাবত ক্রমশ লোকসান দিচ্ছে। গত অর্থবছরে প্রায় ৪ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। লোকসান অব্যাহত থাকলে সরকারি একমাত্র এলপিজি প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা যাবে না। লোকসান বেড়ে গেলে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন আসতে পারে। এতে দেশের এলপি গ্যাসের বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাত নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি বিপিসির এলপিজি নিজেদের উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে বাজারজাতকরণের জন্য প্রস্তাব করেছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেরাই খুচরা পর্যায়ে সরাসরি বিক্রি করলে এলপিজি লিমিটেডের অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে।

জানতে চাইলে এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খান ইত্তেফাককে বলেন, উত্পাদন কমে যাওয়ায় বছরে ৪/৫ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। সরকারি একমাত্র এলপিজি প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা নিজেরাই খুচরা পর্যায়ে বিক্রির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সংসদীয় কমিটিও প্রস্তাব করেছে। আমরা এখন সীমিত পরিমাণ এলপিজি খুচরা পর্যায়ে বিক্রি শুরু করেছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে উত্পাদিত সব এলপি গ্যাস আমরা নিজেরাই বিক্রি করব।’

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি এলপিজি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন। সরকারি এলপিজির কারণে বাজারে ভারসাম্য বজায় রয়েছে। ক্রেতারা পার্থক্য নির্ণয় করতে পারছে। অন্যথায় এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এলপিজি লিমিটেডের উত্পাদন ক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।

বর্তমানে এলপি গ্যাস লিমিটেড বিপিসির নীতিমালা অনুসারে সীমিত পরিমাণ বিক্রি করছে। একজন ক্রেতা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে মাসে সর্বোচ্চ দুই সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে পারেন।

জানা যায়, সিলেটের কৈলাশটিলায় এলপিজি প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় প্রায় ৩২ জন জনবল অলস সময় কাটাচ্ছেন। প্ল্যান্টের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ব্যবহূত না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ও সিলেটের কৈলাশটিলায় দুটি প্ল্যান্ট রয়েছে। এই দুটি প্ল্যান্টের বাত্সরিক উত্পাদন ক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার টন। এখন ইস্টার্ন রিফাইনারি প্ল্যান্টে দৈনিক ৪০ টন এলপিজি উত্পাদন হচ্ছে।