কুমিল্লায় বিচারকের খাস কামরায় আসামি হত্যায় হত্যাকারীর ফাঁসির রায়

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ২২:৪৭

কুমিল্লায় আদালতে একটি হত্যা মামলার আসামি মো. ফারুককে বিচারকের খাসকামরায় তার সহযোগী অপর আসামি মো. হাসান ছুরিকাঘাত করে খুন করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মো. হাসানকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আতাব উল্লাহ এ রায় দেন। এ সময় আসামি হাসান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার কান্দিগ্রামের হাজি আবদুল করিম হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই কুমিল্লা আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাসকামরায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসান জেলার লাকসাম উপজেলার ভোজপুর গ্রামের শহিদুল্লাহর ছেলে এবং আদালতে হাসানের ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া ফারুক জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার কান্দিগ্রামের অহিদুল্লাহর ছেলে। তারা উভয়ে হাজি আবদুল করিম হত্যা মামলার আসামি।

ঐ দিন বিচার চলাকালে আসামি হাসান একই মামলায় তার সহযোগী আসামি ফারুককে আকস্মিকভাবে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে ফারুক বিচারকের খাসকামরায় ঢুকে পড়লে সেখানেও তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত ফারুককে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে একটি মাদক মামলার সাক্ষ্য দিতে আসা জেলার বাঙ্গরা বাজার থানার এএসআই ফিরোজ আহম্মেদ বাদী হয়ে ঐ দিন রাতে ঘাতক হাসানের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবির পরিদর্শক প্রদীপ মণ্ডল একমাত্র আসামি হাসানকে অভিযুক্ত করে ৪৩ দিনের মাথায় ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ নম্বর আমলি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।