করোনার করাল ছোবল নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথকে কঠিন করে দিয়েছে, এর সঙ্গে আগের বৈষম্য তো আছেই। এখনো নারীরা আইনি বৈষম্যের শিকার হয়ে সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত। সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নারীর প্রতি এ সহিংসতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ হয়নি। নারী সম্পর্কে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। নারীকেই প্রতিবাদ করতে হবে, নীরবতার দেওয়াল নিজেকেই ভাঙতে হবে। এমন আহ্বানের মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার পালিত হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, মানববন্ধন, সম্মাননাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও নারীবাদী সংগঠন। এসব কর্মসূচি থেকে তারা নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। এসব কর্মসূচি থেকে বক্তারা বলেন, ‘সমকাজে সমমজুরি’ আইনে থাকলেও, প্রায় সব অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তার বাস্তবায়ন নেই। এমনকি ঘরে-বাইরে সর্বত্রই নারী বৈষম্যের শিকার, বন্ধ হয়নি সহিংসতাও। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল—‘করোনা বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি, সমতা অর্জনে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করি’।
ডিআরইউ :স্বাধীনতার সুবর্ণজয়স্তী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মাসব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সোমবার সকালে বর্ণাঢ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের নেতৃত্বে সমাবেশটি ডিআরইউ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে মত্স্য ভবন পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে ডিআরইউ কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। নারীবিষয়ক সম্পাদক রীতা নাহারের পরিচালনায় কেক কাটা হয়।
টিআইবি :টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিতে নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা এবং সবক্ষেত্রে নারীর নেতৃত্ব প্রদানের মতো অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ বছর ‘টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন : নেতৃত্বে নারী ও সমতা’ প্রতিপাদ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করছে টিআইবি। দিবসটি উপলক্ষ্যে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, করোনা অতিমারি থেকে উত্তরণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমানতালে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অবদান অনেক, সম্প্রতি কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ অনুপ্রেরণাদায়ী নারী নেতৃত্বের স্বীকৃতি তার প্রমাণ। কিন্তু এমন সময়েও নারীদের প্রতি সহিংসতা কিংবা নারীদের অবদমনের প্রক্রিয়া বন্ধ নেই।
