শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি বলেছেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫ থেকে ৬ লাখ নারী অসম্মানিত, লাঞ্ছিত ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের লাঞ্ছনাকারী রাজাকার, আল বদর, আল শামসদের ১৯৭৫ সালের পর এদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এবং তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে। তারা ক্ষমতায় বসে দেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করেছে। নারীর অসম্মানকারীরা আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে এলে দেশে আবারও জঙ্গিবাদ ফিরে আসবে।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
ডা. দীপুমনি বলেন, ধর্ষণের শিকার হলে কোনো নারীর সম্ভ্রমহানি হয় না, সম্ভ্রমহানি হয় ধর্ষকের। ধর্ষণের শিকার নারীদের সমাজে অস্পৃশ্য ধরা যাবে না। সমাজে বিভিন্ন ধরনের ভাষা ব্যবহার করে নারীদের পিছিয়ে রাখা হয়। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর, নারী উন্নয়ন নীতিমালা তৈরি করেন। এ সময় তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বীরাঙ্গনাদের অনেকেই অবজ্ঞার চোখে দেখে। এজন্য সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। তিনি পাঠ্যসূচিতে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কাহিনি অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নারী মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি নির্মাণের প্রতি নজর দিতে শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
